রাজধানীতে ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ: ডিএমপি কমিশনার
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকায় ৩৭টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে ডিএমপির নেওয়া নিরাপত্তা পরিকল্পনা বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, "এ বছর ঢাকা মহানগর এলাকায় ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, ভোটার সংখ্যা ও নিরাপত্তা বিবেচনায় কেন্দ্রগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ৬১৪টি ভোটকেন্দ্রে চারজন করে এবং সাধারণ ৫১৭টি ভোটকেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, "এ ছাড়া আমরা ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এসব কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন।"
ডিএমপি কমিশনার বলেন, "নানা কারণে এবারের নির্বাচন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে নির্বাচনে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই কালিমামুক্ত হতে জাতিকে একটি অর্থবহ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যে ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে দেশ একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে এসেছে, তা এগিয়ে নিতে ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে আমরা প্রস্তুত।"
তিনি বলেন, "এই নির্বাচনে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করব, যা ভবিষ্যতের জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।"
রাজধানীতে নির্বাচনের প্রতিটি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বডি-অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একাধিক ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণে থাকবে ১৮০টি স্ট্রাইকিং টিম ও ৫১০টি মোবাইল টিম। পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের আটটি বিভাগে আটটি কন্ট্রোল রুম এবং চারটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম থাকবে।
তিনি বলেন, সুবিধাজনক স্থানে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স মোতায়েন করা হবে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এসব ফোর্স বেছে বেছে মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া সোয়াট, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, "নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে সুশৃঙ্খলভাবে আপনারা নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করুন। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাই সম্মিলিত অবদান রাখুন।"
নির্বাচন ঘিরে সোয়াট প্রস্তুত রাখাসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, "কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই। পরিবেশ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ভালো। অপরাধ নেই, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নেই, রাস্তাঘাটে অবরোধ নেই।"
নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে না। চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া আছে। নির্বাচন হলে এক পক্ষ জয়ী হবে, আরেক পক্ষ পরাজিত হবে—পরাজিতরা কারচুপির অভিযোগ তোলে, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এখনো নানা গুজব রয়েছে।"
নির্বাচনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার মধ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী—সবাই অন্তর্ভুক্ত। তিন কোটি ঢাকাবাসী এই পরিকল্পনার আওতায়। কারও নিরাপত্তাহানির আশঙ্কা নেই।"
পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "গত ১৫ মাস আমি ডিএমপির কমিশনার। আপনারা কি কখনো দেখেছেন আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করেছি? যদি না দেখে থাকেন, সেটাই প্রমাণ করে আমরা কোনো দলের নই।"
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাঠি হাতে থাকা ভিডিও প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, "আমি ছুটির দিনে বাসায় ইনফরমাল পোশাকে চুল কাটাচ্ছিলাম। তখন জানতে পারি আন্দোলনকারীরা যমুনায় ঢুকে পড়ছে। কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে সরকারপ্রধানের বাসভবনের সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে বসে থাকার সুযোগ আছে?"
তিনি আরও বলেন, "ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে গভীর রাতে যে হামলা হয়েছে, ট্রাফিক জ্যামের কারণে সময়মতো সেখানে আমার অফিসারদের পাঠাতে পারিনি। এসব ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের ওপরই পড়ে।"
