বরিশাল বিভাগেই ৪০% নির্বাচনি সহিংসতা: টিআইবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে নির্বাচনি সহিংসতা সবচেয়ে বেশি হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআইবি) এক গবেষণা অনুযায়ী, সারাদেশের মোট সহিংসতার ৪০ শতাংশ ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ১৭.৫%, ঢাকায় ১৫.২%, ময়মনসিংহে ৮.৭% সহিংসতা ও সংঘর্ষ হয়েছে। সবচেয়ে কম সংঘর্ষ হয়েছে সিলেট বিভাগে, মাত্র ০.২ শতাংশ।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
টিআইবির গবেষণা বলছে, নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে সব প্রার্থী কোনো না কোনো নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণভোট ও প্রাক্-নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদন তুলে ধরেন সংস্থার জ্যেষ্ঠ গবেষণা কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক। পরে সার্বিক পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করেন নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
এছাড়া মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যবিহীন প্রচারণা সামগ্রী ব্যবহার; যানবাহন সহকারে মিছিল, মশাল মিছিল, শো-ডাউন ইত্যাদি; প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, নষ্ট করা; পাঁচ জনের বেশি সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমাসহ বিভিন্ন বিষয় টিআইবির গবেষণায় উঠে এসেছে।
টিআইবি বলছে, নির্বাচনের শুরুর দিকে তুলনামূলক সুস্থ প্রতিযোগিতার লক্ষণ দেখা গেলেও বিভিন্ন দল ও জোটের মধ্যে সংঘাত, কোন্দল, অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, 'দুটি ভোট সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে যদি সবাই বিধিসম্মত আচরণ করেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের। তারা চাইলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।'
তিনি আরও বলেন, 'এবারের নির্বাচনে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হলেও কোনো দলই সেটি করেনি।'
এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, 'একজন নারীকেও মনোনয়ন না দিয়ে জামায়াতে ইসলামী ন্যাক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জামায়াত দেবে বলে আমরা আশাও করিনি। কিন্তু যাদের কাছ থেকে আশা করেছিলাম, তারা কী করেছে? ক্রিয়াশীল সবচেয়ে বড় দলের প্রার্থীদের ২ দশমিক ৭ শতাংশ নারী। কেন?'
নারী প্রার্থী মনোনয়নে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অর্থ, ধর্ম, পেশি, পুরুষতন্ত্র ও গরিষ্ঠতন্ত্র—এই পাঁচটি বিষয়কে বাংলাদেশে 'মৌলিক রাজনৈতিক পুঁজি' বলে উল্লেখ করেছেন ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, 'সংখ্যালঘু, নারীসহ সব পর্যায়ের ভোটারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর। তবে মূল দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর।'
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'বর্তমান সরকারের সময়েও দুর্নীতি অব্যাহত আছে। এই সরকারে দুদকের সংস্কারের সুযোগ থাকলেও তা করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ না করা ভবিষ্যতের জন্য খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে পারেনি।'
