উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী অর্থায়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন: ফাহমিদা খাতুন
বিএনপির দেওয়া নির্বাচনি ইশতেহারকে উচ্চাভিলাষী ও চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ শুক্রবার বিএনপি ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বা প্রতিশ্রুতি নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের কাছে নিজেরে মতামত প্রকাশ করেছেন এই অর্থনীতিবিদ।
তিনি বলছেন, বিএনপি অনেক ভালো ভালো পরিকল্পনা প্রতিশ্রুতি হিসেবে জনগণের সামনে এনেছে। দলটির এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হবে। সেটি জোগাড় করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, নিয়মিত পরিচালন ব্যয়, উন্নয়ন ব্যয়, ঋণ ফেরত দেওয়ার পরে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাড়তি অর্থায়ন নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। এই বাড়তি অর্থায়নের জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সুশাসন দরকার সেটি বর্তমানে নেই। ফলে বাড়তি অর্থায়নের জন্য ব্যপক সংস্কার এবং শক্তিশালী পরিকল্পনা দরকার হবে।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা ও পেনশন বাড়ানো, বেকার ভাতা ও রেশন চালু, এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ, ব্যাংক, শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগের উন্নয়ন, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোসহ আর্থ সামাজিক সকল খাত নিয়ে পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক অর্থের প্রয়োজন। বর্তমানে রাজস্ব সংগ্রহ পরিস্থিতি বেশ কম। ফলে যে দলই আগামীতে সরকার গঠন করুক, তাদের আয় বাড়াতে হবে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ব্যাংকিং খাতের পরিকল্পনাগুলো আরও সুনির্দিষ্ট করা যেত। বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বাধীনতা দরকার। দূর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন নীতিমালা, এ খাতের সুশাসন ও জবাবদিহির জন্য বর্তমান নীতিমালাগুলো আরও শক্তিশালী করা দরকার। সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে আরও ভালো হতো। ঋণ খেলাপিদের নিয়ে বিএনপি তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। কিন্তু আমানতকারীদের সুরক্ষার বিষয়ে পরিকল্পনা দরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করার প্রস্তাবটি ইতিবাচক।
তিনি বলেন, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে কর প্রশাসনের সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। কর আদায়েও সংস্কার দরকার। সামগ্রিকভাবে রাজস্ব খাতে গভীর সংস্কারে যেতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির ইশতেহারে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পদক্ষেপ অনুপস্থিত। শিল্পের সুরক্ষা, বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়ানো কথা বিভিন্নভাবে বলা হলেও সুনির্দিষ্ট করে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা আসেনি। এলডিসি উত্তরণের ফলে যেসব শিল্প প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, তাদের বৈশ্বিক ধাক্কা সামলানোর জন্য বিএনপি কি করবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা থাকলে ভালো হতো।
তিনি বলেন, বিএনপি বিনিয়োগ খাতে সংস্কারের মাধ্যমে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। দলটি বলেছে, এফডিআই জিডিপির ০.৪৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করবে। অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য তুলে ধরেনি। যদিও বিভিন্নভাবে বিনিয়োগ সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে সেটি আরও ভালো হতো।
তিনি বলেন, স্থানীয় বিনিয়োগে আরও জোর দেওয়া দরকার। বিএনপির লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে যেমন বিনিয়োগ লাগবে, রাজস্বের জন্যও বিনিয়োগ লাগবে।
