বিএনপিতে যোগ দিলেন জাকসু ভিপি আবদুর রশিদ জিতু, একাধিক হল সংসদ নেতার ছাত্রদলে যোগদান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া, হল সংসদের একাধিক নেতা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি তহিদুর রহমান আওয়ালসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রদলে যোগ দেওয়া হল সংসদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—নবাব সলিমুল্লাহ হলের ভিপি ইবনে শিহাব, আল বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ শাকিল, এ এফ এম কামাল উদ্দীন হলের ভিপি জি এম এম রায়হান কবির, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বণিক, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারজানা রিথি, মীর মোশাররফ হোসেন হলের জিএস শারিয়ান নাজিম রিয়াদ, শহিদ রফিক-জব্বার হলের জিএস শরিফুল ইসলাম এবং শহিদ সালাম-বরকত হলের ভিপি মারুফ হাসান।
এ ছাড়া, সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত থাকলেও এর আগে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন শহিদ সালাম-বরকত হলের জিএস মাসুদ রানা এবং এ এফ এম কামাল উদ্দীন হলের এজিএস রিপন মণ্ডল।
আবদুর রশিদ জিতুর বিএনপিতে যোগদান পর্বটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন।
এ সময় তিনি বলেন, 'বাংলাদেশে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা, ষড়যন্ত্র ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে এসব নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোথাও ব্যালট পেপার জালিয়াতির ঘটনাও ঘটেছে।'
নাছির উদ্দীন বলেন, 'তারপরও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ২১ শতকের উপযোগী একটি মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বিনির্মাণের লক্ষ্যে সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। প্রত্যাশিত ফলাফল হয়তো সব জায়গায় অর্জিত হয়নি, কিন্তু শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষার এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে আমরা সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছি।'
তিনি বলেন, 'আজকের এই আয়োজনটি হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ভিপি পদে বিজয়ী জনাব আব্দুর রশিদ জিতুর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও আজ ছাত্রদলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করবেন।'
স্বাগত বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, 'বাংলাদেশ বর্তমানে একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমি স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেল থেকে ভিপি পদে নির্বাচিত হই। আমি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনা, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে যে দল ধারণ করে সেই দলের সাথে ভবিষ্যতে রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেছিলাম।'
তিনি বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি এই চেতনাগুলোকে ধারণ করে এবং একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার জন্য বিএনপির কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি এবং দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম একমাত্র বিএনপির মাধ্যমেই সম্ভব।'
তিনি আরও বলেন, 'শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম আমাদের গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন—আজকের এই আয়োজনে আমি তাদের সবাইকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।'
জিতু বলেন, 'আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তাদের আদর্শকে ধারণ করে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে কাজ করব।'
উল্লেখ্য, ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত দশম জাকসু নির্বাচনে ৩ হাজার ৩৩৪টি ভোট পেয়ে 'স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন' প্যানেলের প্রার্থী আব্দুর রশিদ জিতু ভিপি নির্বাচিত হন। বাকি ২৪টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির–সমর্থিত প্যানেল 'সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট'–এর প্রার্থীরা ২০টি পদে জয়লাভ করেন।
জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জুলাই আন্দোলন শুরু থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের আগে জিতু ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। আন্দোলনের সময় সর্বপ্রথম ছাত্রলীগের হাতে মার খেয়ে তিনি আহত হন। পরবর্তীতে আরিফ সোহেল আটক হলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন পরিচালনা করেন।
পরবর্তীতে জিতু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেন। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন তিনি।
