পর্যাটক পেটানো সেই এএসপি তসলিমের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর মামলা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পর্যটকদের লাঠিপেটা করে আলোচিত হওয়া তৎকালীন ফেনীর সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন তার স্ত্রী নুশরাত জাহান শমী।
গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬-এর বিচারক কামরুন্নাহার বেগমের আদালতে এই মামলার আবেদন করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আবেদনটি নিয়মিত মামলা (এজাহার) হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নুশরাত জাহান শমীর আইনজীবী রাকিব হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আজ ট্রাইব্যুনালের লিখিত আদেশ পাওয়া গেছে এবং আবেদনটি রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে। মামলায় এএসপি তসলিম হুসাইন ছাড়াও তার মা, ভাই ও বোনসহ মোট সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা গেছে, তসলিম হুসাইন বর্তমানে বান্দরবান জেলায় সহকারী পুলিশ সুপার (রুমা সার্কেল) হিসেবে কর্মরত আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৩ জুন পারিবারিকভাবে নুশরাত জাহান শমীর সাথে তসলিম হুসাইনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তসলিম অন্য নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং এ বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলির আদেশও হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর থেকে তসলিম বিভিন্ন সময় তার স্ত্রীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা যৌতুক আদায় করেন। টাকা না দিলেই চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত তসলিম বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে কখনো গাড়ি ও জমি ক্রয়, কখনো গ্রামের ভিটায় মাটি ভরাট, কখনো দামি মোবাইল ও ঘড়ি কেনা, এমনকি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল ক্রয়ের কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এমনকি অনলাইনে জুয়া খেলার জন্যও তিনি যৌতুক হিসেবে অর্থ গ্রহণ করতেন। এএসপি তসলিম হুসাইনের বিরুদ্ধে সরকারি বাসায় বহিরাগতদের নিয়ে মদ্যপান ও ইয়াবা সেবন এবং বিভিন্ন স্থানে নারী অতিথিসহ ভ্রমণের অভিযোগও আনা হয়েছে মামলায়। এসব উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে বাদী নিজের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডিও করেছিলেন।
এদিকে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এএসপি তসলিম হুসাইন তার স্ত্রীকে একটি তালাকনামা পাঠান। তবে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত গত ১৮ জানুয়ারি ওই তালাকনামার কার্যক্রমের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর ক্লোজারে পর্যটকদের লাঠিপেটা করার ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এএসপি তসলিম হুসাইন। তার মারধরে একজন পুলিশ কনস্টেবলসহ বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হয়েছিলেন।
