গণভোট ও নির্বাচন উপলক্ষে ক্যারাভ্যানে প্রচারণার অনুমোদন দিল ইসি
আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে আরও উৎসবমুখর ও জনসম্পৃক্ত করতে ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমান বাহনে প্রচারণার অনুমতি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ ধরনের প্রচারণায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না এবং কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ বা জনশৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটানো যাবে না বলে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।
এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্তটি অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জারি করা অফিসিয়াল নির্দেশনায় ইসি জানায়, নির্বাচনী প্রচারণাকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে যানবাহনের চারপাশে ডিজিটাল প্রযুক্তি কিংবা সাধারণ পচনশীল সামগ্রী ব্যবহার করে ক্যারাভ্যান পরিচালনা করা যাবে। তবে এসব কার্যক্রম অবশ্যই নির্বাচন আচরণবিধির আলোকে পরিচালিত হতে হবে এবং কোনোভাবেই জনস্বার্থ বা আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়া যাবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে বাস্তবায়নের সময় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে জনভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
ফেসবুক-ইউটিউবে প্রচারণায় দিতে হবে আইডি ও ব্যয়ের হিসাব
এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এখন থেকে ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা পেজের তথ্য আগেভাগেই রিটার্নিং অফিসারকে জানাতে হবে। পাশাপাশি এই খাতে ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একইদিনে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার রোধ এবং নির্বাচনী ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইতিমধ্যে সব রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসির জারিকৃত চিঠিতে বলা হয়েছে, 'রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫'-এর ১৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট বা তাদের পক্ষে অন্য কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে প্রচারণা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ সব শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন ও বুস্টিংয়ের হিসাব দিতে হবে
এছাড়া বিধিমালার ২২ নম্বর বিধির (২) উপবিধি অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি, বিজ্ঞাপন প্রদান, পোস্ট বুস্টিং বা স্পন্সরশিপের পেছনে যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্বাচন কমিশনে দাখিল করাও বাধ্যতামূলক।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছে, নিজ নিজ এলাকার প্রার্থীরা কোন কোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন, সে সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত ইসি সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখায় পাঠাতে।
