জামায়াত আমিরের আইডি হ্যাক: দেশের বাইরে থেকে প্রক্সি সার্ভার ব্যবহারের সন্দেহ ডিবির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনায় তদন্ত সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, 'প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে দেশের বাইরে থেকে এই হ্যাকিং করা হয়ে থাকতে পারে। তবে কে বা কোথা থেকে এটি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।'
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ডিবি'র পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতের পর বঙ্গভবনের কর্মকর্তা ছরওয়ার আলমকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়। বর্তমানে তার ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
ডিবির তদন্তকারী সূত্র বলছে, 'আটকের আগে ছরওয়ার আলম পুলিশকে জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে বঙ্গভবনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে তার কাছে একটি ই-মেইল আসে। ই-মেইলটি খুলে তিনি কোনো তথ্য পাননি। পরে সহকর্মীদের পরামর্শে সেটি ডিলিট করে দেন। তবে এর আগে ই-মেইলটির একটি ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠান। ডিবি পুলিশের ধারণা, এটি একটি ফিশিং ই-মেইল হতে পারে, যার মাধ্যমে তার ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত তার কম্পিউটার বা অন্যান্য ডিভাইসে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, 'প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ছরওয়ার আলম সরাসরি অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তার ডিভাইসগুলোতেও এ ধরনের কোনো আলামত মেলেনি। তবে প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করা হওয়ায় হ্যাকিংয়ের উৎস শনাক্ত করা জটিল হয়ে পড়েছে। দেশের বাইরে থেকে এ কাজ হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এখনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।'
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছরওয়ার আলমের স্থায়ী নিবাস কুমিল্লায়। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ঢাকার এজিবি কলোনির হাসপাতাল জোনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।
