নরসিংদী-২: জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জামায়াত প্রার্থীর ‘গোপন’ প্রচারণার অভিযোগ সারোয়ার তুষারের
নরসিংদী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার ওরফে সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেছেন, জোটে আসন সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোপনে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে জামায়াতের প্রতীক রয়ে গেছে এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তার দাবি।
জানা গেছে, গত ২৩ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে নরসিংদী-২ আসনে নিজেদের প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ বাতিলের আবেদন জানানো হলেও কারিগরি কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। সে সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে জোটের প্রার্থী সারোয়ার তুষারের পক্ষে কাজ করার জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেছেন, এই নির্দেশনা অমান্য করে গোপনে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সারোয়ার তুষার এই পরিস্থিতির সমালোচনা করে লিখেছেন, 'মানুষ ভোট দেয় গোপন ব্যালটে, কিন্তু ভোটের প্রচারণা হয় প্রকাশ্যে। কোনো দায়িত্বশীল সংগঠন গোপনে ভোটের প্রচারণা চালাতে পারে না। চালায় না। অতি উৎসাহী কয়েকজনের কাজের দায় সংগঠনের নয়। মুসলমানের ওয়াদা ইবাদতের অংশ। আমরা যখন রোজা রাখি, মহান আল্লাহকে হাজির-নাজির জেনে রাখি।'
আবেগঘন ওই পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'গোপনে/লুকিয়ে আহারের সুযোগ থাকলেও আমরা তা করি না। কারণ হাশরের ময়দানে আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহর জেরার মুখে পড়তে হবে। জোট মানে ওয়াদা। জোট মানে সংহতি। জোট মানে আগে যা ছিল দাঁড়িপাল্লা, তা এখন শাপলা কলি। কোনো আদর্শিক সংগঠন ওয়াদার বরখেলাপ করতে পারে না। আল্লাহ আমাদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন। আমিন।'
উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছিল, ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের সমঝোতার ভিত্তিতে নরসিংদী-২ আসনটি এনসিপি প্রার্থী সারোয়ার তুষারের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই চিঠিতে জামায়াতের দলীয় প্রতীক ব্যালটে না রাখার জন্যও নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানানো হয়।
সে সময় জামায়াতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে সারোয়ার তুষার লিখেছিলেন, 'জোট প্রার্থীর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার মনোভাব প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।' তবে প্রচারণার শেষ সময়ে এসে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের একাংশের গোপন তৎপরতায় জোটে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
