২৬ বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা
'চলো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ' স্লোগানকে সামনে রেখে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজেদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ইশতেহারে একটি 'নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ' গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ২৬টি বিষয়কে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহারের মোড়ক উন্মোচন করেন জামায়াতে ইসলামীর আমিরর ডা. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মোট ৮টি ভাগে বিভক্ত এই ইশতেহারে ৪১টি খাত ও উপ-খাতে সংস্কার ও উন্নয়নের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার
পররাষ্ট্রনীতি ও বৈশ্বিক সম্পর্ক
পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলাকে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটি। ইশতেহারে বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে জোরদার কূটনৈতিক উদ্যোগের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে শান্তি ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ, সার্ক ও আসিয়ানের মতো আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থায় বাংলাদেশের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণের অঙ্গীকার করেছে জামায়াত। রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে টেকসই সমাধানের কথা ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
আধুনিক ও আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি শক্তিশালী, আধুনিক ও আত্মনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইশতেহারে জানানো হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বিবেচনায় সব অংশীজনের সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করা হবে। এক্ষেত্রে 'ডিফেন্স ভিশন ২০৩০' আধুনিকায়ন করে নতুন 'ভিশন ২০৪০' প্রণয়নের পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
সামরিক গবেষণায় আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে একটি জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য হবে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি অর্জন এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলা। প্রতিরক্ষা বাজেট পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পাশাপাশি ২০৪০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দলটি।
নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্কার
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আধুনিকীকরণ, সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। সীমান্তে মাদক চোরাচালানসহ অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনসংখ্যার অনুপাতে পর্যায়ক্রমে সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যুবকদের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের জন্য ৬ থেকে ১২ মাস মেয়াদি স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।
