নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হলে মানুষের হতাশার শেষ থাকবে না: নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে দেশের মানুষের হতাশার শেষ থাকবে না। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা যেন কেউ অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।'
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'গণতন্ত্রের মূল বাহন হচ্ছে নির্বাচন। যেখানে নির্বাচন নেই, সেখানে গণতন্ত্রও নেই। জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।'
তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, 'দেশের সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি তথ্য জানেন এবং সত্য অনুসন্ধান তাদের অন্যতম দায়িত্ব।'
তিনি আরও বলেন, 'জাল ভোট দেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কাউকে ভোট দিতে না দেওয়াটাও একই ধরনের অপরাধ।' নির্বাচনকালীন যেকোনো অনৈতিক বা অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
দেশের প্রেক্ষাপট ও চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সুফল দেশের মানুষ এখনো পুরোপুরি পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অনেককে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধেই এ দেশের সন্তানরা জীবন দিয়েছে। বর্তমানে একটি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং আমাদের সেই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।'
গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে তিনি বলেন, 'দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যম এখন বড় বড় শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের হাতে। যেহেতু তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাই গণমাধ্যমের ওপর একধরনের রাজনৈতিক প্রভাব থেকে যায়। এই প্রতিকূলতার মাঝেও সংবাদ পরিবেশনায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।'
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এই নেতা বলেন, 'এবারের নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ অত্যন্ত জটিল। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।'
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলাম জবিউল্লাহ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং সাবেক নির্বাচন কমিশনার ড. জকরিয়া প্রমুখ। এছাড়াও আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ও সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমানসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যগণ সভায় বক্তব্য রাখেন।
