এনসিটি ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আগারগাঁওয়ে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি’-এর বিক্ষোভ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে 'স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি' নামের একটি সংগঠন। আজ ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দুপুর সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) কার্যালয়ের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির দপ্তর সদস্য সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ খবর জানানো হয়।
সমাবেশে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের একমাত্র বিশ্বমানের টার্মিনাল এনসিটি নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে বিতর্কিত বিদেশী কোম্পানির হাতে কনসেশন চুক্তিতে লিজ দেয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত আত্মঘাতি ও দেশীয় স্বার্থবিরোধী। তাই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে।
তারা অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশকে সোমালিয়া বা সুদান-ইয়েমেনের মতো সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকদের আন্দোলন দমাতে দমন-পীড়ন ও বদলির মতো স্বৈরাচারী পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে লিজ বাতিলের দাবিতে বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে 'কনসেশনিয়ার' হিসেবে নিয়োগ দিলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিঘ্নিত হতে পারে। এছাড়া দেশীয় ব্যবস্থাপনায় বন্দর যে রাজস্ব পায়, বিদেশি কোম্পানির অধীনে তা কমে গেলে রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হবে। উন্মুক্ত দরপত্র বা বিডিংয়ের সুযোগ না দিয়ে চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা অস্বচ্ছতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রশ্ন তুলছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সিঙ্গাপুর পোর্টের মত চট্টগ্রাম বন্দরকে আমরা একটি রিজিয়নাল হাব বানাতে চাই। কিন্তু ডিপি ওয়ার্ল্ড, এপিএম টামিনালস, মেডলগ এরা কখনই চায় না বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর রিজিয়নাল হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। ব্যক্তিগত স্বার্থ, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ ও রিজিয়নাল হাব হতে বাধা দিতেই দেশী-বিদেশী লবিস্টরা চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশী সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে। এছাড়া ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি লিজ দেওয়া ভারত-ইসরায়েলের 'আইমেক করিডর' পরিকল্পনার অংশ হতে পারে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
সিঙ্গাপুর বা ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে যে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, ওইসব দেশে বিদেশি কোম্পানি এককভাবে টার্মিনাল চালায় না, যা মূলত আফ্রিকান দেশগুলোতে দেখা যায়। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে চীনের মডেলে বন্দর ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি বলেও তারা মত দেন। এতে পরিবহন খরচ কমবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে বাণিজ্যে গতি আসবে।
তারা আরও বলেন, সরকারকে অবশ্যই নিউমুরিং টার্মিনালকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে লিজ প্রক্রিয়া থেকে অনতিবিলম্বে ফিরে আসতে হবে। নইলে তীব্র আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহবায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক, যুগ্ম আহবায়ক মুহিউদ্দিন রাহাত, দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জুবায়েদুল ইসলাম শিহাব, জাবির বিন মাহবুবসহ প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী-জনতা।
