নির্বাচনের আগে তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক সহিংসতা; জানুয়ারিতে নিহত ১১, আহত ৬১৬
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সংঘাত, আহতের সংখ্যা এবং প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং নিজেদের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে করা আসকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেবল জানুয়ারি মাসেই অন্তত ৭৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৬১৬ জন আহত এবং ১১ জন নিহত হয়েছেন। এটি গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতি। ওই মাসে ১৮টি সংঘাতের ঘটনায় ২৬৮ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হয়েছিলেন।
জানুয়ারির পরিসংখ্যান বিস্তারিত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নির্বাচনি প্রচারণা যত গতি পেয়েছে, সংঘাতও তত বেড়েছে। মাসের প্রথম ১০ দিনে ৮টি সহিংসতার ঘটনায় ২৬ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। এ সময় ১৮টি সংঘাতের ঘটনায় ১৭৬ জন আহত এবং ২ জন নিহত হন। আর জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে সহিংসতার হার ছিল সবচেয়ে বেশি; এ সময় ৪৯টি ঘটনায় ৪১৪ জন আহত এবং ৪ জন প্রাণ হারান।
রাজনৈতিক সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। আসকের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরে দায়িত্ব পালনকালে ১১ জন সাংবাদিক পেশাগত কাজে বাধা বা শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
আসকের মাসভিত্তিক এবং পর্যায়ভিত্তিক বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি আহত ও নিহতের সংখ্যায় একটি স্পষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসক সব রাজনৈতিক দল এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ধৈর্য ধারণ এবং সহিংসতা উসকে দেয়—এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে—যা প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করে—মানবাধিকার সংস্থাটি নির্বাচনকালীন আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
