গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার বিমানের এমডি সাফিকুর রহমানের চুক্তি বাতিল, দায়িত্বে হুমায়রা সুলতানা
গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার ও কারাগারে যাওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তার চুক্তি বাতিলের কথা জানানো হয়। আদেশে বলা হয়েছে, একটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়া এবং হেফাজতে নেওয়ার কারণে ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির বিজ্ঞপ্তির আলোকে সাফিকুর রহমানের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সুচারু ও কার্যকর রাখতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এভিয়েশন ও সিএ) ড. হুমায়রা সুলতানাকে বিমানের এমডি ও সিইও পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন। 'বাংলাদেশ বিমান (রদবদল এবং রহিত বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২-এর সংশোধন) আইন, ২০২৩'-এর ৩০(গ) ধারা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারিকৃত এই আদেশে সই করেছেন সিনিয়র সহকারী সচিব মোসাম্মৎ শাকিলা পারভীন।
এর আগে, ১১ বছর বয়সী এক গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে গত ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উত্তরার ৯ নম্বর সেক্টরের নিজ বাসা থেকে বিমানের এমডি মো. সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী এবং আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ জানান, ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মোস্তফা বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী ও অন্য দুজনের বিরুদ্ধে শিশুকে গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ড. সাফিকুর রহমান ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি ১৯৮৬ সালে ট্রেইনি কমার্শিয়াল অফিসার হিসেবে বিমানে যোগ দেন এবং কর্মজীবনে বিপণন ও বিক্রয় পরিচালক, প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিচালক এবং প্রকিউরমেন্ট ও লজিস্টিক সাপোর্ট পরিচালকের মতো বিভিন্ন জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৭ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং গ্রিসে বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
