র্যাবের নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। র্যাবের নতুন নাম হবে 'স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)'।
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, 'র্যাবের নতুন নাম মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই এ–সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হবে। '
নাম পরিবর্তন হলেও কাজের কী পরিবর্তন হয়েছে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, 'তাদের কাজের মানের পরিবর্তন ইতিমধ্যে চলে এসেছে। আপনি যদি দেড় বছর আগে তাদের কাজের মান দেখেন, আর এখনকার মান দেখেন, তাহলে দেখবেন সেখানে অনেক পরিবর্তন এসেছে।'
উল্লেখ্য, র্যাব ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। দি আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৯ (সংশোধনী ২০০৪) অনুসারে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে র্যাব গঠিত হয়।
২০০৪ সালে গঠিত হওয়ার পর থেকেই র্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এছাড়া সম্প্রতি জাতিসংঘ এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, 'বাহিনীটির অতীত কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো মাথায় রেখে একে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্স, ইতালি বা ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে এলিট ফোর্স যেভাবে কাজ করে, সেই আদলে এসআইএফ-কে সাজানো হবে।'
সরকার জানিয়েছে, র্যাব থেকে এসআইএফ-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি কেবল নামেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। মানবাধিকার রক্ষা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর আধুনিকায়নই হবে এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য। দৃশ্যমান পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বাহিনীর পোশাক, লোগো এবং পরিচয়পত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে যেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ না ওঠে, সেজন্য ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর এলিট ফোর্সের কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, এসআইএফ-কে এমনভাবে গঠন করা হবে যেন তা আইনসম্মত ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে কাজ করে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসন্ন নির্বাচন নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, 'পুলিশের মনোবল এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। দিন-তারিখ ঘোষণার পর পরিস্থিতি উৎসবমুখর থাকবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হবে।'
