বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা: হোটেল কর্মচারী মিলন গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ‘প্রতিশোধ’
রাজধানীর বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ ফাতেমা আক্তার নীলিকে (১৮) গলা কেটে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব জানিয়েছে, অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বকাঝকা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে হোটেল কর্মচারী মিলন মল্লিক (২৮)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি জানান, রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন বড় সিংগা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মিলনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৩ ও র্যাব-৬ এর যৌথ আভিযানিক দল।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মিলন মল্লিক ভুক্তভোগী নীলির বাবার মালিকানাধীন হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করত। সেই সুবাদে সে প্রায়ই নীলিদের বাসায় আসা-যাওয়া করত। গত ৭ জানুয়ারি নীলির বাবা, মা ও ছোট ভাই জমি সংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে যান। হোটেলের অন্য তিন কর্মচারীও ছুটিতে ছিলেন। তবে মিলন ছুটিতে না গিয়ে একমাত্র কর্মচারী হিসেবে নীলিদের বাসায় খাবার খেতে যেত। ঘটনার দিন বাসায় তখন শুধু নীলি ও তার বড় বোন শোভা আক্তার ছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র্যাব আরও জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই মিলন নীলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে সে খাবার নিয়ে নীলিদের বাসায় গেলে পুনরায় তাকে কুপ্রস্তাব দেয়। নীলি এতে রাজি না হয়ে মিলনকে চরম গালিগালাজ ও বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিনই নীলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় মিলন।
পরদিন নীলির বড় বোন জিমের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে গেলে সুযোগ বুঝে মিলন সেখানে প্রবেশ করে। তার সঙ্গে আগে থেকে সংগৃহীত একটি নাইলনের দড়ি ছিল। বাসায় ঢুকে সে আবারও নীলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। নীলি তাতে রাজি না হওয়ায় মিলন তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ধরলে নীলি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে রান্নাঘরের বটি দিয়ে নীলির গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে মিলন পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দ
র্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেপ্তারের সময় মিলনের কাছ থেকে একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। সেই ব্যাগের ভেতরে হত্যাকাণ্ডের সময় তার পরনে থাকা রক্তমাখা জামাকাপড় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।
হত্যাকাণ্ডের পর চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, 'ঘটনার পর ওই বাসা থেকে মিলন কিছু টাকা চুরি করার কথা স্বীকার করেছে, তবে টাকার অংক জানায়নি। এছাড়া স্বর্ণালঙ্কার চুরির বিষয়টি সে অস্বীকার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা বিস্তারিত তদন্তে বেরিয়ে আসবে।'
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার মিলন একজন মাদকাসক্ত। তার নামে ডিএমপি অর্ডিন্যান্সে আগে থেকেই একটি মামলা রয়েছে। তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ৯ নম্বর রোডের 'প্রীতম ভিলা' থেকে ফাতেমা আক্তার নীলির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নীলির বাবা মো. সজিব বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ছায়া তদন্ত করতে গিয়েই র্যাব মূল ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে।
