১ সপ্তাহে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে: মাহদী আমিন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গত ১ সপ্তাহে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, 'আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, গত এক সপ্তাহেই আমাদের নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।'
আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।
মাহদী আমিন বলেন, "আমরা আরও দেখতে পাচ্ছি, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে এবং একই ভাষা ও একই ধরনের স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি স্পষ্ট, বিএনপির ক্রমবর্ধমান গণজোয়ার ও জনসমর্থনের মুখে তারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলেই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পথ ছেড়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপতথ্য ছড়ানোর নোংরা কৌশল বেছে নিয়েছে।"
তিনি বলেন, "ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিএনপি যখন অবিরত সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে ও আন্দোলন করেছে, তখন যারা একটিবারের জন্যও সংস্কারের কথা মুখে আনেনি বা সংস্কার নিয়ে চিন্তা করেনি, আজকে তারা অনেকেই সংস্কার নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন। সংস্কারের জনক, ধারক ও বাহক বিএনপিকে নিয়ে তথাকথিত এই নব্য সংস্কারবাদীরা বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন, যা বিস্ময়কর।"
তিনি জানিয়েছেন, জনগণের ক্ষমতায়ন তথা ভোটাধিকারের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে বিএনপি বিশ্বাস করে।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এ মুখপাত্র আরও বলেন, "বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আসছে। ২০১৬ সালে বিএনপি জাতির সামনে উপস্থাপন করে ভিশন-২০৩০। ২০২২ সালে ঘোষণা করা হয় ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব, এবং ২০২৩ সালে আরও বিস্তৃতভাবে উপস্থাপন করা হয় ৩১ দফা।"
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব বিএনপিই ২০১৬ সালে সর্বপ্রথম জাতির সামনে তুলে ধরেছে বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, "একইভাবে, একজন ব্যক্তি যেন দীর্ঘদিন ধরে একই পদে ক্ষমতায় থাকতে না পারেন, সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবও বিএনপিই আগে উত্থাপন করেছে।"
২০১৪ সালেই তারেক রহমান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, "এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা ইতোমধ্যেই আমাদের দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বারবার ঘোষণা করেছেন।"
নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাচনি কাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ক্যাডেটদের মোতায়েনের সিদ্ধান্তে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।"
তার ভাষ্য, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া অনেক বিএনসিসি ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে তাদের নির্বাচনি কাজে সম্পৃক্ত করলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠির মাধ্যমে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন বলেন, "গত ২৬ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকেই রয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৪২ জন পর্যবেক্ষক।"
তিনি বলেন, "কয়েকটি সংস্থার নেতৃত্ব পর্যায়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকার তথ্যও উদ্বেগজনক।" নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে কয়েকটি দাবি জানান মাহদী আমিন। এর মধ্যে রয়েছে— পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ তালিকা যাচাই করে রাজনৈতিক ও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া, যেসব সংস্থার নির্বাচনি অভিজ্ঞতা কম তাদের পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং কোনো কেন্দ্রে একসঙ্গে দুজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
