এনসিটি ইজারা: চতুর্থ দিনের কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাই ভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চতুর্থ দিনেও কর্মবিরতি পালন করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। টানা তিন দিন ৮ ঘণ্টা করে কর্মবিরতির পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে ২৪ ঘণ্টার সর্বাত্মক কর্মবিরতি। এতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতির মূল এই চালিকাশক্তি।
বন্দর জেটিগুলোতে বেশ কয়েকটি জাহাজ ভেড়ানো থাকলেও কন্টেইনার বা পণ্য ওঠানামার কাজ চলছে না। সবগুলো ক্রেন ও যন্ত্রপাতি বন্ধ করে শ্রমিকরা বন্দর ত্যাগ করায় পণ্য ডেলিভারিও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আমদানি পণ্য নিতে এবং রপ্তানি পণ্য দিতে আসা কয়েক হাজার ভারী যানবাহন আটকা পড়েছে।
সময়মতো পণ্য খালাস করতে না পারায় আমদানিকারকদের অতিরিক্ত স্টোর রেন্ট বা মাশুল গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারায় অর্ডার বাতিলের শঙ্কায় রয়েছেন রপ্তানিকারকরা। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ভোগ্যপণ্যবাহী অনেক কন্টেইনার আটকে পড়ায় আসন্ন রমজানের আগে বাজারে পণ্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এনসিটি ইস্যুতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
আন্দোলনরত চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির টিবিএসকে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'সরকার যদি এনসিটি ইজারা দেওয়ার মতো দেশের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে কর্মবিরতির এই কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে নেওয়া হবে।'
বন্দরের এই অচলাবস্থা সম্পর্কে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও মুখপাত্র ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
