বিরোধী প্রার্থী ও নারী সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপির বিরুদ্ধে, সরকারের হস্তক্ষেপ চায় এনসিপি
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে বিরোধী প্রার্থী ও নারী সমর্থকদের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে চলমান নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন সিএফ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি সারাদেশে নারী সমর্থক ও বিরোধী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় পরিকল্পিতভাবে বাধা দিচ্ছে। ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, লিফলেট বিতরণকারীদের মারধর এবং ভোটারদের প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে। তিনি সারা দেশে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া হাজারো নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আকরাম হুসাইন সিএফ অভিযোগ করেন, ঢাকার ১১টি আসনে এনসিপির প্রার্থী ও আহ্বায়কের বিলবোর্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের এনসিপি প্রার্থী এস এম জার্জিস কাদিরের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩০ জানুয়ারি ফেরি উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও একই ধরনের হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীদের তালিকা আগেই পুলিশ সুপারকে দেওয়া হলেও প্রশাসন কোনো ভূমিকা নেয়নি এবং তিন দিন পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এছাড়া তমরদ্দি ইউনিয়নে এনসিপির কার্যালয় ভাঙচুর, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা এবং পরদিন তালতলা বাজারে পথসভায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপে অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ভোটের প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের গালাগালি, সাইবার বুলিং, শারীরিক নির্যাতন এবং হিজাব ও নিকাব খুলে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় এনসিপি।
এছাড়া শেরপুরের একটি হত্যা মামলার প্রসঙ্গে এনসিপি জানায়, জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম হত্যা মামলার প্রধান আসামি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জনকে হাইকোর্ট ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেওয়ায় দলটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এনসিপির দাবি, এসব আসামি জামিন পেয়ে আরও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
গণভোট ইস্যুতেও বিএনপির বিরুদ্ধে তৃণমূল পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর অভিযোগ করে এনসিপি। বক্তব্যে বলা হয়, গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটকে ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে এনসিপি। দলটির দাবি, বিএনপির কৃষিঋণ মওকুফ ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেআইনিভাবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণগ্রহীতাদের তথ্য সংগ্রহ করছে, যা একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনী সুবিধা দেওয়ার শামিল।
সবশেষে এনসিপি নেতারা বলেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে আসন্ন নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
