ওষুধের মূল্য নির্ধারণ নীতিমালার গেজেট প্রকাশ
অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে 'ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬' প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঔষধ প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা এ প্রজ্ঞাপন গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৩০ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের সব অনুমোদিত অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের জাতীয় তালিকাভুক্ত ঔষধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য সরকার নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে কস্ট-প্লাস বেঞ্চমার্কিং সূত্র অনুসরণ করা হবে, যেখানে কাঁচামাল, প্রাইমারি প্যাকেজিং ও শ্রেণিভিত্তিক যুক্তিসংগত মুনাফা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারের লক্ষ্য ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। অত্যাবশ্যকীয় তালিকার বাইরে থাকা ওষুধের ক্ষেত্রে বাজারে বিদ্যমান দামের মধ্যক মান ভিত্তিতে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হবে। একই ওষুধের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামের বৈষম্য কমানোই এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য।
আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে অনুমোদন পাওয়া ওষুধকে পেটেন্ট-বহির্ভুত ও পেটেন্ট-ভুক্ত—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
বায়োলজিক্যাল ও ইমিউনোলজিক্যাল ওষুধে গবেষণা ও উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বাড়তি মুনাফার সুযোগ রাখা হয়েছে।
অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের সংকট ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে এসব ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সরকারের মতে, নতুন মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি কার্যকর হলে ঔষধের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধ হবে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
