কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার দাবি নাকচ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের
রোববার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে যে খবর ছড়ানো হয়েছে তা সত্য নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে দ্রুত ভিসা পেতে সুবিধা হওয়ায় তার কয়েকজন সহকর্মী সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এখানেই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। আমি বা আমার স্ত্রী কেউই আমাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেইনি। আমার পাসপোর্ট আমার কাছেই আছে। দায়িত্ব পালনকাল চলমান থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা কোনো মন্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন—এটা খুবই অস্বাভাবিক।'
তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন, কিছু ব্যক্তি নতুন পাসপোর্ট নিয়েছেন। তার ভাষায়, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এতে ভিসা পাওয়া সহজ হয়।
কিন্তু কারা নতুন পাসপোর্ট নিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো নাম উল্লেখ করেননি।
বাংলাদেশে সাধারণত শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং নীতি অনুযায়ী উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধি ও তাদের নির্ভরশীলদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট দেওয়া হয়।
এই পাসপোর্টধারীদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী (বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা), স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যরা (বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা), কূটনীতিক এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা।
যদি কেউ তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট জমা দেন, তবে তাকে সাধারণ (সবুজ) পাসপোর্ট দেওয়া হয়।
এর আগে তিনি নির্বাচন প্রতিবেদন বিষয়ে এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) ইউএনডিপি ও মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)-এর সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাবেক বাংলাদেশ ব্যুরো প্রধান ফরিদ হোসেন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান এবং ডিক্যাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস।
