নারীর পরিচালক পুরুষ, তাই শীর্ষ পদ মুখ্য নয়: জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, পুরুষরা নারীদের পরিচালক। এ কারণে দলের শীর্ষ পদে যাওয়াটা নিজেদের জন্য মুখ্য মনে করেন না তারা।
আজ রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এদিন বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় দলটির মহিলা বিভাগের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
নুরুন্নিসা সিদ্দিকা জানান, নারী হোক বা পুরুষ, যারা মানবিক হবেন এবং নারীসহ সবার মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করবেন, এমন নেতৃত্ব তারা চান।
দলটির অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে দলের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। তবে কোনো বাধাই নারী ভোটারদের দমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয়। জামায়াতের নারী বিভাগের নেত্রীরাও তাই মনে করেন কি না, তা জানতে চান এক সাংবাদিক।
জবাবে নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, 'জামায়াতের শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্ব বিষয় জানতে চেয়েছেন। এর মানে আপনারা বোঝাতে চেয়েছেন আমির হতে পারবে কি না। এখানে আপনারা জানেন জামায়াতে ইসলামী হলো ইসলামী সংগঠন। আর ইমলামী সংগঠন ইসলাম মেনে চলবে এটাই স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেছেন, পুরুষ হচ্ছে নারীর পরিচালক। আমরা এটা মেনে নিয়েই ঈমান এনেছি। সুতরাং শীর্ষ পদে নারী নেতৃত্বে আসা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্ব হলো নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কি না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বাংলাদেশে গত ৫৪ বছরে দুজন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু নারীদের সমস্যার কি সমাধান হয়েছে? নারীদের প্রতি সহিংসতা কি কমেছে? নারীদের অধিকার কি আদায় হয়েছে? তাহলে শুধু নারী শীর্ষ পদে থাকলেই যে হয়ে যাবে কথাটা ঠিক না।
জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শুরার উপদেষ্টা কমিটিতে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রয়েছে এবং স্থানীয় নির্বাচনেও তারা বিপুলভাবে অংশগ্রহণ করছেন বলে জানান তিনি।
