জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চানখাঁরপুলে হত্যা: আপিল নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত ৫ পুলিশকে মুক্তি না দেয়ার আদেশ
গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারী নিহতের ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ পুলিশ সদস্যকে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি না দেয়ার আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত।
একই সঙ্গে কনস্টেবল মো. সুজনকে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া পর্যবেক্ষণও স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। ঘটনার দিন সুজন আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন। কিন্তু 'কনস্টেবল হিসেবে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশ মানতে বাধ্য ছিলেন'—এমন বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল তাকে মাত্র তিন বছরের সাজা দিয়েছিল। চেম্বার আদালত সেই পর্যবেক্ষণ স্থগিত করেছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে এই আদেশ দেন চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ চানখাঁরপুল মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আট আসামির মধ্যে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ্ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। তারা তিনজনই পলাতক।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন—ডিএমপির রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল (৬ বছর), শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন (৪ বছর)। এছাড়া সাবেক কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে প্রসিকিউশন। সেখানে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড পাওয়া এই ৫ পুলিশ সদস্যের সাজা বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়।
