ইসির নিষেধাজ্ঞার পরেও অনেক সরকারি অফিসের সামনে এখনো ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যানার
গণভোটে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষেধ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেওয়ার পর সচিবালয়সহ কিছু সরকারি অফিসের সামনে থেকে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে প্রচারণার বিলবোর্ড সরানো শুরু হয়েছে। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের প্রধান ফটক থেকে এখনো পুরোপুরি সরেনি 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে লাগানো ব্যানার ও পোস্টার।
ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার সরকারি অফিসগুলোর চিত্রও প্রায় একই। কোনো কোনো দপ্তর থেকে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে লাগানো ব্যানার ও পোস্টার সরানো হলেও অধিকাংশ সরকারি অফিসের গেটেই এখনো এসব প্রচার-প্রচারণা দেখা যাচ্ছে।
আবার কিছু অফিসে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণার বিলবোর্ড সরিয়ে নতুন বোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বোর্ডে গণভোটের মাধ্যমে কী কী বিষয়ে সংশোধন আসবে, তা পয়েন্ট আকারে তুলে ধরা হলেও 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো আহ্বান নেই।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে পারবেন। তবে তারা 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোটের পক্ষে কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
এই নির্দেশনার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ শুক্রবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, "গণভোটে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোটের প্রচারসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানিয়ে দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সবাই জেনেছেন, এখন আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।"
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক অতিরিক্ত সচিব শুক্রবার সকালে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, ইসির চিঠি পাওয়ার পর তা বাস্তবায়নের জন্য বৃহস্পতিবারই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের প্রবেশ গেট থেকে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে স্থাপন করা ব্যানারগুলো খুলে ফেলা হচ্ছে। ব্যানার খোলার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশেই তারা এসব ব্যানার সরাচ্ছেন।
তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গেটে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে দেওয়ালে লাগানো একটি ব্যানার দেখা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটসহ মতিঝিল এলাকার বেশিরভাগ সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গেটেও 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে লাগানো ব্যানার দেখা যায়।
ঢাকার বাইরে
শুক্রবার চট্টগ্রামেও কয়েকটি সরকারি অফিসে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণার ব্যানার ও বিলবোর্ড দেখা গেছে।
নগরীর আন্দরকিল্লায় অবস্থিত জেলা পরিষদ বহুতল ভবনে গণভোটের প্রচারণা সংবলিত বড় আকারের একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। এর পাশে গণভোটে 'হ্যাঁ' দিতে জনগণকে আহ্বান জানিয়ে আরেকটি ব্যানার ছিল। জেলা পরিষদের ওই ব্যানারে লেখা ছিল—"গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি—আপনার হাতে; পরিবর্তনের জন্য 'হ্যাঁ'।"
পাশেই ঝুলানো আরেকটি ব্যানারে 'গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন, দেশের চাবি আপনার হাতে' শিরোনামে আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান—এই প্রশ্ন তুলে গণভোটের পর কী কী পরিবর্তন হবে, তা উল্লেখ করা হয়। সেখানে 'হ্যাঁ' ও 'না' ভোট দিলে কী হবে, তাও তুলে ধরা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বালুচরা এলাকায় অবস্থিত সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর গবেষণাগারেও গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটের ফলে কী কী পরিবর্তন হবে—তা উল্লেখ করে ইতিবাচক প্রচারণার ব্যানার ঝুলতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এলাকায় অবস্থিত জনতা ব্যাংক, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সামনে 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে উৎসাহিত করে একই ধরনের প্রচারপত্র দেখা গেছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব ব্যানার ও পোস্টার টাঙানো হলেও নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ ধরনের প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে বলা হলে কিছু স্থানে সেগুলো নামানো হয়।
জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সামনে 'আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?'—শিরোনামে গণভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করে প্রচার চালানো হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকাতেও গণভোট নিয়ে বড় আকারের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোটের বিষয়ে সরাসরি কোনো উল্লেখ না থাকলেও 'দেশের চাবি আপনার হাতে' শিরোনামে গণভোটের মাধ্যমে কোন কোন বিষয়ে পরিবর্তন আসবে, তা তুলে ধরা হয়েছে।
