৪৭% মানুষ মনে করেন তারেক রহমানই হচ্ছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, বাড়ছে বিএনপির জনপ্রিয়তা: জরিপ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমতের বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের 'পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)'-এর তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, দেশের ৪৭.৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম নামের দুটি নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় এই জনমত জরিপ পরিচালিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার জনসমর্থন কত?
জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পছন্দের তালিকায় শীর্ষ রয়েছেন তারেক রহমান (৪৭.৬%)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান (২২.৫%)। এছাড়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নাহিদ ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। তবে প্রায় ২২.২ শতাংশ উত্তরদাতা এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনো উত্তর দিতে পারেননি।
আওয়ামী লীগ ভোটারদের ঝোঁক এখন বিএনপির দিকে
জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। জরিপের তথ্য বলছে, সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ এখন বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন ১৩.২ শতাংশ এবং ৪১.৩ শতাংশ ভোটার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
নির্বাচনি লড়াইয়ে এগিয়ে বিএনপি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজ এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জিতবে?'—এমন প্রশ্নের জবাবে ৫২.৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপির নাম নিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে বিএনপি ৫২.৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। যেখানে জামায়াত ও তাদের জোটের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা ৩১ শতাংশ।
পেপসের দ্বিতীয় রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপির সমর্থন ৭.৫ শতাংশ বেড়েছে। জামায়াতের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ১.১ শতাংশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এক বিশাল সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোট
জুলাই অভ্যুত্থানের জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে আয়োজিত সম্ভাব্য গণভোটে জনগণের ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশই গণভোটে 'হ্যাঁ' বা সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ মানুষ এই বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানেন না বলে জানিয়েছেন।
জরিপ পদ্ধতি
ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার জানান, চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার শহর ও গ্রামের ৫ হাজার ১৪৭ জন ভোটারের সঙ্গে টেলিফোনে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং দলীয় পছন্দের মতো ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতামত নেওয়া হয় এই জরিপে।
এর আগে গত বছরের মার্চ ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে এই জরিপের প্রথম ও দ্বিতীয় রাউন্ডের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। মূলত ওই দুই রাউন্ডে অংশগ্রহণকারীদের ওপরই তৃতীয় দফার এই ফলো-আপ জরিপ চালানো হয়।
