গায়ানায় নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার পরিকল্পনা করছে সরকার
দক্ষিণ আমেরিকার দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির দেশ গায়ানায় নতুন কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদেশে কর্মরত জনবলের একটি অংশকে গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে পাঠিয়ে অস্থায়ীভাবে মিশনের কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ফার্স্ট সেক্রেটারি অথবা কাউন্সিলরের নেতৃত্বে ছোট পরিসরের একটি মিশন গঠন করা হবে। মিশনপ্রধান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দ্রুত একটি অফিস স্থাপনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, "বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৮ থেকে ৪৯টি দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন রয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি দেশে সীমিত পরিসরে ছোট মিশন কার্যক্রম চালু আছে। গায়ানায় নতুন এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দেশটির দ্রুত সম্প্রসারিত অর্থনীতিতে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো।"
গায়ানা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ব্যাপক তেল ও গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত বেড়েছে। গত বছর দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছায়, যা বৈশ্বিকভাবে নজিরবিহীন।
শফিকুল আলম বলেন, "এই অর্থনৈতিক উত্থানের ফলে গায়ানায় চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দক্ষ শ্রমিকের বড় ধরনের চাহিদা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ, সেবা ও কৃষিখাতে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষিখাতে গায়ানার বিপুল আবাদযোগ্য জমিকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।"
তিনি বলেন, দেশটিতে ধান ও আখ চাষের উপযোগী বিস্তীর্ণ জমি রয়েছে। এসব জমি লিজ নিয়ে কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগ করা গেলে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।
শফিকুল আলম আরও বলেন, "গায়ানায় কূটনৈতিক উপস্থিতি গড়ে উঠলে বাংলাদেশ নতুন শ্রমবাজার ধরতে পারবে এবং দক্ষিণ আমেরিকায় অর্থনৈতিক কূটনীতির পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।"
