নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার গ্রহণে প্রস্তুত রিটার্নিং কার্যালয়গুলো
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরু হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিস তা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রাখা হচ্ছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছবে, তাদের ব্যালট গণনা করা হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছ পোস্টাল ব্যালট বাক্স লক করেছেন এবং তা গ্রহণের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করেছেন।
রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে ব্যালট বাক্স লক করার পর সাংবাদিকদের বলেন, 'আউট অভ কান্ট্রি (ওসিভি) ও ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিংয়ের (আইসিপিভি) ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে এবার। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দেবেন, তাদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এ ভোটকক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য ২৪টি ব্যালট বাক্স রয়েছে।'
ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত রয়েছে ৫ হাজার ৬১৭ জন ভোটার, আর ঢাকা-১৫ আসনে ৭ হাজার ৪০৫ জন।
ইউনুচ আলী বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে; তাদের উপস্থিতিতে বাক্স বন্ধ করাসহ সার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে।
'১২ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ডাক বিভাগের ডাক আসবে; নিয়ম অনুযায়ী বারকোড মেশিন দিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে যথাযথভাবে ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে এবং ব্যালটের খামটি বাক্সে রাখা হবে,' বলেন তিনি।
এই রিটার্নিং অফিসার আরও বলেন, ব্যালট বাক্স ও লক নম্বর ডকুমেন্টেশনসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা থাকবে।
'১২ ফেব্রুয়ারি সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে, তা বাক্সে রাখা হবে। এরপর এলে তা বাক্সে রাখা হবে না, আলাদাভাবে থাকবে,' বলেন তিনি।
অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, প্রতিনিয়ত ডাক বিভাগ থেকে যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে, তা স্ক্যান ও চেক করে রেজিস্টার করে বাক্সে রাখা হবে। 'ভোটগণনার সময় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে সব কিছু মিলিয়ে নেবেন; তারপর গণনা করা হবে।'
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি ভোটার ওসিভি নামে ও আর দেশে অবস্থানরত ব্যাক্তিরা আইসিপিভি নামে নিবন্ধন করেছেন।
এছাড়া পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী ও আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা এই নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন।
