দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে শুধু চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীক থাকবে: ইসি
দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে শুধু সংশ্লিষ্ট আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীকই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ইসি জানিয়েছিল, দেশের ভেতরে ও প্রবাসী ভোটারদের জন্য ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত সব প্রতীক থাকবে।
এ বিষয়ে গত ১৯ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে একটি পরিপত্র পাঠায় নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়, প্রবাসে অবস্থানরত ভোটারদের (ওসিভি) ভোট প্রদানের জন্য মুদ্রিত পোস্টাল ব্যালটে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য সংরক্ষিত সব প্রতীক থাকবে। ওই ব্যালটে কোনো প্রার্থীর নাম থাকবে না। প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে, যেখানে ভোটার টিক বা ক্রস চিহ্ন দেবেন।
এ ছাড়া দেশে অবস্থানরত পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানযোগ্য ভোটারদের (আইসিপিভি) জন্য মুদ্রিত ব্যালটে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক উভয়ই থাকবে। ওই ব্যালটে নাম ও প্রতীকের পাশে ফাঁকা ঘর থাকবে, যেখানে ভোটার টিক বা ক্রস চিহ্ন দেবেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসুদ টিবিএসকে বলেন, "দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার হবে, তার ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি সাধারণ ব্যালটের মতো হবে। সংশ্লিষ্ট আসনের জন্য যে ব্যালট ছাপা হবে, সেটিই পাঠানো হবে।"
তিনি আরও বলেন, "বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে যেমন সব দলের প্রতীক থাকে, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে যে আসনের জন্য ব্যালট পাঠানো হবে, সেখানে কেবল চূড়ান্ত প্রার্থী ও তার প্রতীকই থাকবে।"
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। ৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে অ্যাপের মাধ্যমে এই নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হয়। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য এই পদ্ধতিকে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) এবং দেশে অবস্থানরতদের জন্য ইন কান্ট্রি পোস্টাল ভোটিং (আইসিপিভি) বলা হয়।
উল্লেখ্য, 'পোস্টাল ভোট বিডি' অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, নিজ এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন।
দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে কেবল চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীক রাখার দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপি। সম্প্রতি দলটির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বর্তমান পোস্টাল ব্যালটের জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা প্রস্তাব দেয়, পোস্টাল ব্যালট যেন সাধারণ ব্যালট পেপারের মতো সহজবোধ্য হয় এবং সেখানে শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক থাকে।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা মনে করি, এই ব্যালট পেপারটি সঠিক নয়। এখানে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং একটি দলকে বিশেষভাবে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এটি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছি।"
