জিয়াউর রহমানকে কটূক্তির মামলায় গ্রেপ্তার ওয়ার্কার্স পার্টির মেনন ও সাবেক বিচারপতি মানিক
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে মানহানির এক মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এই আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, সাবেক বিচারপতি চ্যানেল আইয়ের টক শো মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্টে জিয়াউর রহমানকে রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধী অভিহিত করে বক্তব্য দেন। তিনি বিচারপতি হয়ে নিরপেক্ষতা নষ্ট করেছেন।
রাশেদ খান মেননও বিভিন্ন সময়ে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান নিয়ে ঠান্ডা মাথায় বিরূপ মন্তব্য করে এসেছেন। আসামিরা অনেক প্রেস বিফ্রিং-এ বিএনপির বিরুদ্ধে নানান কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে এসেছেন। তাদের সকলের বিচার হওয়ায় দরকার। আসামিদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রার্থনা করছি।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষের এসব বক্তব্য শুনে বিচারপতি মানিক ও মেননকে মুচকি হাঁসি দিতে দেখা যায়। শুনানি শেষে আবারও তাদের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী মধ্যে দিয়ে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে জিয়াউল হক নামে এক আইনজীবী বাদী হয়ে তিন জনের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি হলেন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।
ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর চ্যানেল আইয়ের টক শো মেট্রোসেম টু দ্য পয়েন্টে জিয়াউর রহমানকে রাজাকার এবং যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিহিত করেন। ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি সেমিনারে বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তিনি ছিলের মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রবেশকারী।
২০১৩ সালের ১৯ জুলাই ভিন্ন অনুষ্ঠানে হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেনন জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এ ছাড়া আসামিরা বিভিন্ন সময়ে জিয়া পরিবার নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন।
মানহানিকর এই বক্তব্য দেওয়ায় জিয়াউর রহমান ও তাঁর দলের (বিএনপি) ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
