তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো শিক্ষকের ব্যানার ছিঁড়লেন রাকসু জিএস, 'মানসিক চিকিৎসার' দাবি ছাত্রদলের
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টাঙানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। ব্যানারটি টাঙিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন তালুকদার। তিনি রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরের সামনের প্যারিস রোডে টাঙানো ব্যানারটি ছিঁড়ে ফেলেন সালাহউদ্দিন। তার আগে, একই দিনেই সকাল সাড়ে ১১টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে অধ্যাপক নেছার উদ্দিনকে দুপুর ২টার মধ্যে ব্যানারটি অপসারণের জন্য আলটিমেটাম দেন তিনি। অধ্যাপকের পক্ষ থেকে ব্যানার না সরানোয় নিজেই তা ছিঁড়ে ফেলেন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন।
ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় রাজশাহী জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন বলেন, 'আমাদের সংবিধান অনুযায়ী জিয়া পরিষদ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এটা ওর অজ্ঞতা। ঘোষণা দিয়ে ব্যানার ছিড়ে ফেলা, এটা একটা ধৃষ্টতা। এটা নোংরামির চরম পর্যায়। আমি দৃঢ় প্রতিবাদ জানাই। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।'
ব্যানার খুলে ফেলার ভিডিও শেয়ার করে ফেসবুক পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লিখেছেন, 'দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে, ২টার মধ্যে ব্যানার অপসারণ করতে আহবান জানিয়েছিলাম। উনি অপসারণ করেননি। তাই শিক্ষার্থী হিসেবে নিজে ছিড়ে দিলাম। ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে রাজনীতির যতোগুলো উপসর্গ যখনই পাবো শিক্ষকদের তখনই বিরোধিতা করবো। শিক্ষক রাজনীতি শিক্ষার মাথা খেয়ে একেকজনকে পলিটিকাল দালাল বানাইয়া রাখছে।...'
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, 'অন্য আরেকটি দল জামায়াতে ইসলামীর জন্যও একই বার্তা তবে তারা ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে এখন পর্যন্ত একটা বিবৃতিও দেয়নি, মিছিল মিটিং করেনি এমনকি তাদের দলীয় পরিচয় এই ক্যাম্পাসে আমি পাইনি এখনও। আপনারা যেকোনো দল করেন, রাজনীতি করেন তবে সেটা ক্যাম্পাসের বাইরে।'
এর আগের পোস্টে ব্যানার অপসারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি উল্লেখ করেন, '৭৩-এর অধ্যাদেশের সেকশন ৫৫ (২) অনুযায়ী যা করা যাবে না (আইন ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী): ১. বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি বা প্রচার চালানো। ২. শিক্ষক সমিতিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে ব্যবহার করা।'
ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় ফেসবুকে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। রাকসুর সাবেক এজিএস প্রার্থী মো. সজিবুর রহমান লিখেছেন, 'শিক্ষক রাজনীতি ও ছাত্র রাজনীতি নিয়ে যারা এখন কথা বলছে, তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সবচেয়ে বড় ভণ্ডের পরিচয় দিচ্ছে। দীর্ঘ দেড় বছর তারা কী করেছে?..রাকসু প্রতিনিধিদের বলবো- কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করে ক্যাম্পাসের অনেক সমস্যা সেগুলো সমাধানে কাজ করেন।'
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) কোষাধ্যক্ষ কায়ছার আহমেদ লিখেছেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা গুপ্ত রাজনীতি শুরু করতে পারেন। যদি ইনস্ট্যান্ট লাভের কথা বলেন তাহলে বলব আপনাদের কোনো ধরনের ব্যানার-পোস্টার তৈরি করতে হবে না। এতে যেমন টাকা-পয়সা সেভ হবে তেমনি কেউ ছিড়তেও পারবে না। গুপ্ত রাজনীতি করেই সাদিক কায়েম ডাকসুর ভিপি পর্যন্ত হয়েছেন।'
এদিকে, সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, কর্মসূচি আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা একটায় অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক কালে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় এবং সংশ্লিষ্ট রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও মনোসামাজিক সহায়তার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
