আমিরকেও দিতে হবে সমান নিরাপত্তা প্রটোকল, প্রধান উপদেষ্টার কাছে জামায়াতের দাবি
নির্বাচনি মাঠে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য অন্য শীর্ষ নেতাদের মতোই সমান নিরাপত্তা ও প্রটোকল দাবি করেছে দলটি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে জামায়াত অভিযোগ করে, বর্তমানে কোনো কোনো দলের প্রধানকে যে ধরনের বাড়তি নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে, তা নির্বাচনি আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. তাহের বলেন, ''গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে আমরা লক্ষ্য করছি, কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের প্রধানকে নিয়ে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের বাড়াবাড়ি চলছে। তাকে অতিরিক্ত সিকিউরিটি এবং প্রটোকল দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনি মাঠে যে সমতল ভূমিকার প্রশ্ন ছিল, সেটি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।''
তিনি বলেন, ''অন্য কাউকে অধিকতর নিরাপত্তা বা প্রটোকল দিলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু একটি অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে সমভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরকেও একই ধরনের আচরণ ও প্রটোকল দিতে হবে। যদি এর ব্যত্যয় হয়, তবে জাতি এই নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতমূলক আচরণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করবে।''
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এই অভিযোগ শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে জানান ডা. তাহের।
তিনি বলেন, ''প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি আগেই সমআচরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু কেন তা বাস্তবায়ন হয়নি, সেই 'ভূত' বা প্রতিবন্ধকতাগুলো খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি আমরা।''
ডা. তাহের বলেন, ''পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা তৈরি করেছেন এবং প্রয়োজনে তা লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টাকে দেওয়া হবে।''
নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অন্যান্য দাবি নিরাপত্তা প্রটোকল ছাড়াও বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাবি জানানো হয়:
১. ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা: প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
২. ভোটের দিন বুথে সেনাবাহিনী নয়: জামায়াতের দাবি, ভোটকেন্দ্রের গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং ভোটারদের ভীতি দূর করতে বুথের ভেতরে সেনাবাহিনী, পুলিশ বা র্যাব—কাউকেই রাখা যাবে না। তাদের দায়িত্ব হবে কেন্দ্রের বাইরে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা।
৩. নমিনেশন বাছায়ে স্বচ্ছতা: দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণ খেলাপির অজুহাতে যেন কোনো বিশেষ দলের প্রার্থীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করা হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফিল্ড লেভেলে কাজ করা কোনো কোনো জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে জামায়াত।
বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ''প্রধান উপদেষ্টা তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।''
