বড় সাজ্জাদ, নওফেলসহ ‘৩৩০ তালিকাভুক্ত অপরাধীর’ চট্টগ্রামে প্রবেশ নিষিদ্ধ করল সিএমপি
জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) '৩৩০ জন তালিকাভুক্ত অপরাধী'র ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের মহানগর এলাকায় প্রবেশ বা অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশ জারি করা হয়।
তালিকায় বিদেশে পলাতক বলে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ, কারাগারে থাকা ছোট সাজ্জাদ ও বার্মা সাইফুল, সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর এসরারুল হক এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজম রনিসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতার নাম রয়েছে। এছাড়া আরও অনেকের নাম এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিএমপি অধ্যাদেশের ৪০, ৪১ ও ৪৩ ধারা অনুযায়ী এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। নগরীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষা দিতে পুলিশকে এই ক্ষমতাবলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
আদেশের আওতায় তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নগরীতে প্রবেশ বা অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মহানগর এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চিহ্নিত অপরাধী চক্রের সদস্যদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, এই নির্দেশ অমান্যকারী যে কারও বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণবিজ্ঞপ্তির সঙ্গে নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের নামের ১২ পাতার একটি তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ ও গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ। তিনি জানান, তালিকায় থাকা সবাই বিভিন্ন মাত্রার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।
তিনি বলেন, 'এই তালিকার সবাই ছোট বা বড় অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। তারা স্বভাবজাত অপরাধী এবং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই পুলিশের প্রতিরোধমূলক রেকর্ড রয়েছে।'
এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো এবং নির্বাচনের আগে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা।
তিনি আরও বলেন, 'মাননীয় পুলিশ কমিশনারের আইনানুগ ক্ষমতা ব্যবহার করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে, কোনো বাধা বা ভীতি প্রদর্শন ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে পারে।'
সিএমপির এই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, তালিকাভুক্ত কিছু ব্যক্তি বর্তমানে কারাগারে আছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, 'তালিকার কেউ যদি কারাগার থেকে মুক্তি পায় বা নগরীতে প্রবেশ করতে দেখা যায়, তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
