হুমকি-ধমকি মামলায় অব্যাহতি পেলেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী
হুমকি-ধমকির অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকলে শুনানি শেষে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকারের আদালত এই আদেশ দেন।
হুমকি-ধমকির অভিযোগে করা এক মামলায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সোমবার ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকারের আদালতে এ বিষয়ে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, 'আমরা তাকে (বাদী) কখনোই দেখিনি। তাকে চিনি না। তার সাথে কোন দিন কথাও হয়নি। তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।'
এদিন সকাল ১০ টার দিকে ঢাকার জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে আসেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী। সকাল ১১টার দিকে ভাইসহ মেহজাবীন আদালতের এজলাসে ওঠেন। পাঁচ মিনিট পরে এই মামলায় শুনানি শুরু হয় এসময় মেহজাবীন ও তার ভাই আলিসান আদালতের কাঠগড়ায় উঠেন।
মেহজাবীনের পক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার জবান দাখিলের শুনানিতে তিনি বলেন, এই মামলার বাদীর ঠিকানা ভুয়া, মোবাইল নাম্বারেও ১২ ডিজিটের। মামলার বাদীর ৫ পৃষ্ঠার বক্তব্য ৭৯ টা লাইন আছে। সম্পূর্ণ বক্তব্যটাই সাজানো। পুরা আর্জিটা মনগড়া ভিত্তিহীন। আদালতে আমরা বলেছি এই বাদীকে আমার মক্কেলরা চেনেন না, তার সঙ্গে কোন পরিচয় নাই। অতএব হুমকি-ধমকি দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
তিনি আরও বলেন, মেহজাবীন একজন অভিনেত্রী। তার সুনাম ক্ষুন্ন করার কোন পরিকল্পনা থাকতে পারে, এজন্য এ মামলা করা হয়েছে। হাতিরঝিল থানাধীন এলাকায় এই টাকা লেনদেন হয়েছে। এটা অবিশ্বাস্য কথা৷ আমরা এই মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির প্রার্থনা করছি।
এরপর বাদী আমিরুলের পক্ষে আইনজীবী রায়হান গাজী বলেন, আসামিরা ধার্য তারিখে না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়। আমরা আসামির দাখিলকৃত জবাব পাইনি। এই আসামিরা মামলার বাদীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে টাকা চাওয়ায় তাকে হুমকি ধমকি দিয়েছেন। পরবর্তী শুনানির জন্য আমরা একটা সময়ের প্রার্থনা করছি।
এসময় বিচারক বাদীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কে হুমকি দিয়েছে?
বাদী বলেন, ওনারা হাতিরঝিল এলাকায় আমাকে হুমকি দিয়েছে। তখন বিচারক বলেন, মেহজাবীন হুমকি দিয়েছে? বাদী বলেন, না, তার ভাই হুমকি দিয়েছে। বিভিন্ন অপরিচিত লোক দিয়ে তিনি হুমকি দিয়েছেন।
এরপর মেহজাবীনের উদ্দেশ্যে বিচারক বলেন আপনি কি তাকে হুমকি দিয়েছেন। তখন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, আমরা তাকে (বাদী) কখনোই দেখিনি। তাকে চিনি না। তার সাথে কোনো দিন কথাও হয়নি। বাদী কোনভাবেই প্রমাণ দিতে পারেননি। বিকাশ- নগদের মাধ্যমে যে ২৭ লাখ টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এটার বিষয়ে কোনো প্রমাণও নেই।
বিচারক তখন বলেন, এই মামলায় বিষয় ২৭ লাখ টাকা না। এটা হুমকি ধমকি দেওয়ার মামলা। এখানে বিচারের বিষয় হচ্ছে আপনারা তাকে হুমকি ধমকি দিয়েছেন কিনা?
তখন মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই মাথা নেড়ে বলেন, না।
বিচারক বলেন, আর ভবিষ্যতে হুমকি-ধমকি দিবেন কি-না? তখন মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, হুমকি-ধমকি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত এই মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এর আগে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলায় হুমকি-ধমকির অভিযোগের বিষয়ে জবাব দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১২ জানুয়ারি ধার্য করেন আদালত।
গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার ৩নং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবাব দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক বদলিজনিত কারণে জবাব দাখিল সংক্রান্ত শুনানি হয়নি। এজন্য পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক সাম্প্রতিক সময়ে অন্যত্র বদলি হওয়ায় এই মামলার নির্ধারিত তারিখে শুনানি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। বিচারক অনুপস্থিত থাকায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকে এবং আদালতের প্রচলিত বিধি ও নিয়ম অনুযায়ী মামলাটির শুনানির জন্য একটি নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে নতুন বিচারক যোগদান করার পর মামলার নথিপত্র পুনরায় উপস্থাপনপূর্বক এই মামলার শুনানি গ্রহণ করা হবে।
এ কারণে আদালতের আদেশক্রমে মামলাটি পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয় এবং নির্ধারিত তারিখে পক্ষগণকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ প্রদান করা হয়। নতুন নির্ধারিত তারিখে বিচারক উপস্থিত থাকলে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরী। ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ আফরোজা হক তানিয়ার আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
বাদীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পরিচয়ের সুবাদে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আসামি মেহজাবীন চৌধুরী বাদীকে নতুন পারিবারিক ব্যবসার পার্টনার হিসেবে রাখবে বলে নগদ অর্থ এবং বিকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে মোট ২৭ লাখ টাকা নেন। এরপর মেহজাবীন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ না নেওয়ায় বাদী বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে গেলে আজকে দিবো কালকে দিবো বলে দীর্ঘদিন কালক্ষেপণ করেন। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা ১৬ মার্চ হাতিরঝিল রোডের পাশে একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলেন।
আরও বলা হয়, ওইদিন ঘটনাস্থলে গেলে মেহজাবীন ও তার ভাইসহ আরো অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচ জন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারা বলেন, "এরপর তুই আমাদের বাসায় টাকা চাইতে যাবি না, তোকে বাসার সামনে পুনরায় দেখলে জানে মেরে ফেলব।" এসব কথা বলে তারা বাদীকে জীবননাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ভাটারা থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য পরামর্শ দেন।
এ ঘটনায় আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১০৭ ও ১১৭(৩) ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।
