টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশুটি বেঁচে আছে; মিয়ানমারের সংঘাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এল সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে একাধিক গ্রুপের সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হয়েছে। এছাড়া সংঘাতের জেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ সদস্য বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিশুটির নাম আফনান (১১)। সে ওই গ্রামের জসিম উদ্দিনের মেয়ে।
মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে ওই শিশু গুরুতর আহত হওয়ার পর সে মারা গেছে বলে খবর ছড়িয়ে পরে। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেন। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শিশুটি মারা যায়নি। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হোয়াইক্যং সীমান্ত দিয়ে আসা রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর এই সদস্যরা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। সেখান থেকে বিজিবি তাদের হেফাজতে নিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বিজিবি।
এর আগে সকালে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের জেরে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি এক শিশু নিহত হওয়া তথ্য জানিয়েছিলেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক খোকন চন্দ্র রুদ্র। তবে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে তিনি জানান, শিশুটি এখনও বেঁচে আছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
খোকন চন্দ্র বলেন, মিয়ানমার সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির সময় এপারে বাংলাদেশি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। 'শুরুর দিকে শিশুটি মারা গেছে বলে সবদিকে প্রচার শুরু হয়। শিশুটির পিতা-মাতাও বুঝতে না পেরে শিশুটির মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেন। পরে দেখা গেছে শিশুটি বেঁচে আছে। তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, 'দুপুরের দিকে ওপারের সংঘর্ষে টিকতে না পেরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর ৪৯ জন সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এ সময় বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা তাদের হেফাজতে নেয়।'
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, 'মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হওয়ার পর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সে মারা গেছে বলে খবর প্রচার হয়। এতে স্থানীয় লোকজন সড়ক অবরোধ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ, জনপ্রতিনিধি পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শিশুটি মারা যায়নি।'
