আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জাজিরায় সংঘর্ষ, ২০০ হাতবোমা বিস্ফোরণ; আহত ১
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে অন্তত দুই শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় জাবেদ নামের এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার সকালে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের বুধাইরহাট বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমদ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলাসপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী ব্যক্তি কুদ্দুস ব্যাপারী ও জলিল মাদবরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বর্তমানে জলিল মাদবর একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তাদের অনুসারী মন্তা ও সালাউদ্দিন ব্যাপারীর মধ্যে বিরোধ সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করে।
শনিবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জের ধরে রোববার ভোর থেকেই উভয় পক্ষ সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিতে থাকে। সকাল হলে বুধাইরহাট বাজার এলাকায় দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে বালতিভর্তি শত শত হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হলে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এতে বাজারের একাধিক দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের আতঙ্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যান।
সংঘর্ষে আহত জাবেদকে উদ্ধার করে প্রথমে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের তৎপরতায় সংঘর্ষ বন্ধ হলেও এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহমদ বলেন, কুদ্দুস ব্যাপারী ও জলিল মাদবরের অনুসারীদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নতুন করে আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত একজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
