৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের
আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আলটিমেটামের বিষয়ে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, 'সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আমরা ৩০ কার্যদিবস সময় দিয়েছিলাম। আর বাকি আছে ২২ দিন। আমরা ওই কার্যদিবস ধরেই এগোচ্ছি। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যদি সরকার এই খুনের বিচারকার্য সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা ৩০ কার্যদিবসের পর সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করব।'
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারিগরদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, '৭ জানুয়ারির মধ্যে শুধু খুন যারা করেছেন তারা নন, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছেন, প্রত্যেককে চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।'
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক কারণ ব্যাখ্যা করে জাবের আরও বলেন, 'ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিল। ফলে অনেকেই মনে করেছে হাদিকে যদি এখনই হত্যা করা না যায় তাহলে পরবর্তী সময় তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সীমান্তে লাশ ফেলা যাবে না। দিল্লির তাবেদারি করা যাবে না। সবকিছু একই সূত্রে গেঁথে তারপর হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।'
বিচার নিশ্চিতে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি জানান, আগামীকাল থেকে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। জাবের বলেন, 'যারা বাংলাদেশপন্থী তাদের কাছে যাব। যারা ভারতের তাবেদারি করে, তাদের কাছে যাব না। যত বাংলাদেশপন্থী সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে, প্রতিটির কাছে যাব। তাদের কাছে সহযোগিতা চাইব। তারা সহযোগিতা করলে আলহামদুলিল্লাহ, না করলে আমরা রাজপথে থাকব।'
এর আগে, জুমার নামাজ শেষে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নিলে ওই এলাকায় যান চলাচল কিছুটা ব্যাহত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চলে।
অবস্থান চলাকালে আন্দোলনকারীরা 'তুমি কে, আমি কে, হাদি-হাদি', 'এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে', 'লীগ ধর, জেলে ভর', 'দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা', 'ভারত না বাংলাদেশ, বাংলাদেশ-বাংলাদেশ'সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
