একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া মারা গেছেন
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও শিশুতোষ ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আজ (২ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতা নিয়ে তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ সময় তার ফুসফুসে তরল জমে যায়।
পারিবারিক সূত্র আরও জানায়, সুকুমার বড়ুয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০০৬ সালে স্ট্রোক করার পর তার শরীরের ডান পাশ আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তার করোনারি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও জানা যায়।
১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার বড়ুয়া। কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৬০–এর দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
১৯৬৩ সালে তিনি তোপখানা রোডে মাসিক ছয় টাকা ভাড়ায় বাঁশের বেড়ায় তৈরি একটি ছোট কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন।
অল্প সময়ের মধ্যেই তার লেখা ছড়া জায়গা করে নেয় 'কচিকাঁচার আসর', 'খেলাঘর' ও 'মুকুলের মহফিল'-এর মতো শিশুতোষ সাহিত্যপত্রিকায়।
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৯৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।
প্রায় ছয় দশক ধরে লেখালেখির মাধ্যমে সুকুমার বড়ুয়া বাংলা শিশু সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। শিশুতোষ সাহিত্যে তিনি ছিলেন এক প্রভাবশালী নাম। 'ছড়ারাজ', 'ছড়াশিল্পী' ও 'ছড়াসম্রাট' নামে পরিচিত এই কবি ব্যঙ্গ, রসবোধ ও নৈতিক শিক্ষাকে ছড়ার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। একই সঙ্গে তার লেখায় উঠে এসেছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সচেতনতার বিষয়ও।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, নদীর খেলা, ছোটদের হাত, মজার পড়া ১০০ ছড়া, সুকুমার বড়ুয়ার ছড়া সম্ভার (দ্বিতীয় খণ্ড), যুক্তবর্ণ, চন্দনার পাঠশালা, জীবনের ভেতরে বাইরে ইত্যাদি।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদক প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার।
লেখক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুকুমার বড়ুয়ার মৃত্যু বাংলা শিশুতোষ ছড়ার এক যুগের অবসান ঘটাল। তবে তার সৃষ্টি করা সাহিত্যভাণ্ডার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠকের মনে বেঁচে থাকবে।
