যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে আগুন, পুড়ে গেছে ২০০ বছরের পুরনো দলিল
যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে আগুন লেগে পুড়ে গেছে ২০০ বছরের পুরনো ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন। তিনি বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুরনো ভবনে আগুন লাগার খবর পান। ভবনের গেটে তালা মারা থাকে। সেখানে একজন নৈশপ্রহরীও থাকেন। কিন্তু আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা ভালোমতো পর্যবেক্ষণ না করে কিছু বলা যাবে না বলে জানান তিনি।
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরনো ভবনের গেটে তালা দেয়া ছিল। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি আরও বলেন, 'পুরনো দুটি রুমে রেখে দেওয়া পুরনো দলিলপত্র পুড়ে গেছে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।'
বিদ্যুৎবিহীন ও তালাবদ্ধ ঘরে কীভাবে আগুন লাগতে পারে—এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোরের শার্শা সাবরেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন বলেন, তার বর্তমান কর্মস্থল শার্শা হলেও তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় থাকেন। একসময় জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে চাকরি করেছেন। এ রেকর্ড রুমে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণ করা ছিল।
মিলন আরও বলেন, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া এ ভবনের দরজা কেউ খুলতেন না। আগুন লাগার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভেতরে গিয়ে দেখতে পান পুরনো সমস্ত কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছু কাগজপত্র আছে, তা-ও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, আগুন লাগার ঘটনাটি রহস্যজনক। ওই ভবনের কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে আগুন লাগার কারণও নেই। পরিকল্পিতভাবে ওই ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হতে পারে।
