চট্টগ্রামে নির্বাচনি প্রচারণায় বন্দুক হামলা: বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ, তালিকাভুক্ত 'সন্ত্রাসী' সারোয়ার নিহত
চট্টগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বন্দুকধারীর হামলায় চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং একজন দলীয় সমর্থক নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গতকাল (৫ নভেম্বর) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে 'বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন না, ঘটনাস্থলে ছোড়া একটি বিচ্ছিন্ন গুলিতে তিনি আহত হন।'
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এরশাদ উল্লাহ গতকাল বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শহরের বায়েজিদ এলাকার চালিতাতলী এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সারোয়ারের মৃত্যু হয়।
এই বন্দুক হামলার ঘটনায় যুবদল নেতা শান্তও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বিবৃতিতে সংঘটিত সহিংস হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী ও নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় তাদের অটল প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
পুলিশের ধারণা, আরেক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সরওয়ারকে গুলি করা হয়েছে।
নগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, চালিতাতলী মসজিদে মাগরিবের নামাজ শেষে এরশাদ বেরিয়ে আসার কিছুক্ষণ পরই এই গুলির ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, 'রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। এরশাদ, সারোয়ার এবং শান্ত সবাই গুলিবিদ্ধ হন। সারোয়ার পরে হাসপাতালে মারা যান, আর শান্তর অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। এরশাদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।'
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী 'প্রথম আলো'কে বলেন, এর সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, 'বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় শত শত মানুষ যোগ দিয়েছিল এবং দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সৃষ্ট সংঘর্ষের মধ্যে সরওয়ার গুলিবিদ্ধ হয়।'
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সারয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হত্যা এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। এটিই তার ওপর প্রথম হামলার ঘটনা নয়। গত বছরের ৩০শে মার্চ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে শহরের বাকালিয়া এলাকায় একটি প্রাইভেট গাড়িতে বন্দুকধারীরা গুলি চালায়। গাড়ির ভেতরে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হলেও, সারোয়ার প্রাণে বেঁচে যান।
তদন্তকারীরা পরে জানান, এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পলাতক জঙ্গি সাজ্জাদ আলীর অনুসারী ছোট সাজ্জাদের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী কারাগারে রয়েছেন।
২০০০ সালের ১২ জুলাই বহদ্দারহাটে সন্ত্রাসী হামলায় ছয় ছাত্রলীগ কর্মীসহ আট জন নিহতের ঘটনায় করা মামলায় সাজ্জাদ আলী (বড় সাজ্জাদ) সাজাপ্রাপ্ত হলেও, পরে উচ্চ আদালত থেকে আপিলে খালাস পাওয়ার পর বিদেশে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশ থেকেই তিনি ছোট সাজ্জাদের মাধ্যমে বায়েজিদ, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও এবং হাটহাজারী জুড়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন।
একসময় সেই নেটওয়ার্কের অংশ থাকা সারোয়ার ২০১৫ সালে দল থেকে বেরিয়ে যান বলে জানা গেছে।
গত বছরের আগস্টে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপির বেশ কয়েকটি কর্মসূচীতে সারোয়ারকে অংশ দিতে দেখা যায়।
এক মাস আগে সারোয়ার বিয়ে করেন। এরশাদ উল্লাহসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
