‘আমি যদি আর ৫ মিনিট আগে স্কুলে যেতাম তাহলে মেয়েটা পুড়তো না’
'আমার চোখের সামনে ব্লাস্টটা হয়েছে। আমি সায়েবাকে আনতে স্কুলে গিয়েছিলাম। ও আমাকে দেখে ডাক দিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই বিকট শব্দে আগুন লেগে গেল।'
বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ৫ তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের দরজার সামনে বসে ছিলেন মাইলস্টোন স্কুলের ক্লাস ফোরের শিক্ষার্থী শেখ সায়েবা মেহেজাবিনের মা শারিমন ইয়াসমিন সুরভি।
তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'স্কুল ছুটি শেষে সায়েবা দোলনায় খেলছিল। ও আমাকে দেখে ডেকেছিল, তারপর আগুনের মধ্যে পড়ে যায়। ওর শরীরের পিছনের অংশ পুড়ে গেছে। সায়েবার শরীরের ২২% পুড়ে গেছে। সায়েবারা চারজন ছিলো দোলনায়। জোরে আওয়াজ পেয়ে কলেজ মাঠে আম্মু বলে চিৎকার করে দৌড় দিয়েছিল।'
তিনি বলেন, 'সেখানে একজন লোক এবং এক শিক্ষক গায়ে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়েছে। ওই লোক এবং শিক্ষক তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। বিস্ফোরণের পর আমি মেয়েকে খুঁজে পাইনি। ছোট ছেলে সাদকে কোলে নিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। দোলনার কাছে মেয়ের ব্যাগ দেখতে পেয়েছিলাম, কিন্তু মেয়ে নাই। ব্যাগ নিতে যেতে পারিনি, যেতে দিচ্ছিল না।'
ওই নারী বলেন, 'পরে একজন ফোন করে বলে সায়েবা লুবানা হাসপাতালে আছে। এরপর ফোন করে বলেছে ঢাকা মেডিকেলে আনতেছে। তখনও বড় ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না, সেও মাইলস্টোনে ক্লাশ নাইনে পড়তো। তবে সে আগে পরীক্ষা দিয়ে বাসায় চলে গিয়েছিল। বাসায় গিয়ে ছেলেকে পেয়েছি।'
তিনি জানান, উত্তরা তুরাগ থানার খালপাড়ে বাসা তাদের।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সায়েবা বলেছে, আম্মু তুমি দেরি করেছো কেনো? আমি ৫ মিনিট লেট করেছিলাম। আমি দেরি না করলে আমার মেয়ে আজ ভালো থাকত বলে কাঁদতে থাকেন শারমিন।
