বাংলাদেশে ইসলামি শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব ‘মোটামুটি ঠিকভাবে তুলে ধরেছে’ নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: বার্গম্যান

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ (পূর্বতন টুইটার) তিনি লিখেছেন, এক দশক ধরে জমায়েতের ওপর দমন-পীড়নের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই যে, বাংলাদেশে ইসলামি শক্তির পুনরুত্থান ঘটবে, তা মোটামুটি নিশ্চিতই ছিল।
সম্প্রতি এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ওই প্রতিবেদনকে তিনি 'মোটামুটি সঠিক চিত্রণ' উল্লেখ করে বলেছেন, এটি নাগরিক সমাজে এসব ধর্মীয় শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে তুলে ধরেছে।
বার্গম্যানের মতে, আওয়ামী লীগের পতনের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা এতদিন দমন-পীড়নের শিকার হওয়া ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর—বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর—শক্তি পুনর্সঞ্চয়ের সুযোগ করে দিয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও বলেছেন, আওয়ামী লীগ পতনের পর নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছুক্ষেত্রে এসব ধর্মীয় শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নারী অধিকারের পক্ষে কথা বলেছে। তবে তা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেছেন বর্গম্যান। কারণ সরকার নিজেই রাজনৈতিক আনুগত্যের দিক দিয়ে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, যার ফলে কোনো একদিকে অবস্থান নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি লিখেছেন, 'এখন আওয়াজ তোলার দায়িত্ব তাদের, যারা একটি আরও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশে বিশ্বাস করেন।' একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, তবে এ ধরনের আওয়াজ এখন অনেকটাই স্তব্ধ। তার মতে, এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো—ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে থাকা অনেকেই আগে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতেন, তাই বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে সরব হওয়াটা সহজ নয়।