নতুন বেতন কাঠামো, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বাড়াচ্ছে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি: বাংলাদেশ ব্যাংক
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সাম্প্রতিক সাফল্যকে ব্যাহত করার মতো খরচের নতুন ধাক্কা এবং রাজস্বে উদীয়মান চাপের শঙ্কায়—নীতি সুদহার (পলিসি রেট) ৯.৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ১০ মাসের সর্বনিম্ন ৮.২৬ শতাংশে নেমে আসা সত্ত্বেও, এই সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঘোষিত অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি বিবৃতিতে (কিউএমপিএস) জানানো হয়েছে, সরকারঘোষিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নতুন জাতীয় পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তই মূলত বাজারে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে।
মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে, "সম্প্রতি নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে, পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পে স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন মূল্যস্ফীতি ও সরকারের রাজস্ব খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।"
চলতি মাসের শুরুর দিকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম– লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর ফলে দেশের মূল অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা ইতোমধ্যে প্রস্তুতকারক, কৃষি উৎপাদক, লজিস্টিকস, পরিবহন নেটওয়ার্কের জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.০২ শতাংশে নামলেও—খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩২ শতাংশের মতো উচ্চ স্তরেই রয়ে গেছে। পরিবহন ভাড়া বাড়ার সম্পূর্ণ প্রভাব বাজার বিদ্যমান এই গভীর মূল্যের চাপ—আগামী দিনে আরও ঘনীভূত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান জানান, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হার ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার ৭.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে তৈরি হওয়া সংঘাতে জাহাজ-চলাচল ব্যাহত হওয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রভাবে—সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ পরিস্থিতিতে অকালেই মুদ্রানীতি শিথিল করা হলে– তা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিতে পারে। একইসঙ্গে তা মূল্যস্ফীতিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকেও বিলম্বিত করবে।
