জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়বে, মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি হবে: সেলিম রায়হান
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বাড়িয়ে দিয়ে মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি করবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক মনে করেন, এই বাড়তি খরচের ধাক্কা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে দেবে, অথচ এই চাপ সামাল দিতে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট কৌশল এখনো দৃশ্যমান নয়।
সম্প্রতি তার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই পর্যালোচনা তুলে ধরেন।
ড. সেলিম রায়হানের মতে, প্রথম সতর্কবার্তা হলো—সরকারের ব্যয় ও ঋণের মারাত্মক চাপ। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক সুরক্ষা ও বেতন বৃদ্ধিসহ সরকারের বিভিন্ন খাতে ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তা সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সেই ঘাটতি মেটাতে সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বিপজ্জনকভাবে বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো দৃশ্যমান নয়।
দ্বিতীয় সতর্কবার্তা হিসেবে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপকে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, জ্বালানি তেলের বড় ধরনের দাম বৃদ্ধি পরিবহন, শিল্প উৎপাদন ও সার্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, যা বাজারে মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে। এই বাড়তি চাপ সরকার কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবে, সে বিষয়ে কোনো কার্যকর কৌশল দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া জ্বালানি খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং অতিরিক্ত করের বোঝা কমানোর বিষয়েও নীতিপর্যায়ে কোনো আলোচনা নেই।
তৃতীয়ত, বিনিয়োগের স্থবিরতা এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি পোস্টে বলেন, 'দেশের বিনিয়োগে বড় ধরনেরর স্থবিরতা রয়েছে। অর্থনৈতিক ও বহুধা অ-অর্থনৈতিক কারণে (রাজনৈতিক অস্থিরতা, মব কালচার, সরকার ও নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, সামাজিক অস্থিরতা ও শ্রম পরিস্থিতি) বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ছে না এবং পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ দৃশ্যমান নয়। ফলে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, খুচরা পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন এই দাম সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। এই নতুন সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল।
নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। এতদিন ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।
