ডিএসসিসির ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন, সর্বোচ্চ বরাদ্দ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৪ হাজার ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটের ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে সড়ক ও মহাসড়ক অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নেই সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ বাজেট ঘোষণা করেন।
প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮১৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা মোট প্রাপ্তির প্রায় ৪৫ শতাংশ।
এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাতে থাকা অর্থের পরিমাণ (প্রারম্ভিক স্থিতি) কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রারম্ভিক স্থিতি ছিল ৮৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নতুন অর্থবছরে তা কমে ৭৩০ কোটি ৯৩ লাখ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রায় ১১৪ কোটি টাকা কমেছে।
মোট বাজেটের প্রায় ৪৮ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ৯০৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮০৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এই অর্থের মধ্যে সড়ক ও মহাসড়ক উপখাতেই সর্বোচ্চ ৫২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডিপিপিভুক্ত সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
বাজেটে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যয় বাবদ ১২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা ও মাতৃত্ব খাতে ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সংস্থাপন ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯৬৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, পরিচ্ছন্নতা ব্যয় বাবদ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩২৭ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় চার গুণ।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৪১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৫২ শতাংশ। উন্নয়ন খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স, সড়ক খনন ফি, বিজ্ঞাপন কর, দোকান ভাড়া, পাবলিক টয়লেট ইজারা, অন্যান্য ফি এবং সরকারি অনুদান ও বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প থেকে অবশিষ্ট আয় সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ''নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত করারোপ বা কর হার বৃদ্ধি না করে বরং করপোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।' তিনি জানান, অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক-ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে 'ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি' বাস্তবায়নের ধাপ হিসেবেই এই বাজেট সাজানো হয়েছে।''
