জুলাই-মে সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হার নেমে এসেছে ৪৮.২৩ শতাংশে
অর্থবছরের ১১ মাস পার হয়ে গেলেও—বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মোট বরাদ্দের অর্ধেক অর্থও ব্যয় করতে পারেনি মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো। বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্যে এই হতাশাজনক চিত্র উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৭৬৩ কোটি টাকা। এই খরচ মোট সংশোধিত এডিপি বরাদ্দের মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।
উন্নয়ন সহযোগী অংশীদার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিলসহ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে সরকারের মোট বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের এই ব্যয় এমনকি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ হাজার ২৪২ কোটি টাকা কম। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মে মেয়াদে এডিপি বাস্তবায়নের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৫ দশমিক ৭৩ কোটি টাকা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে—.উন্নয়ন ব্যয়ের এই শ্লথগতি আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওই অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের উন্নয়ন ব্যয় দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৭৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকায়।
আইএমইডির কর্মকর্তারা বলেন, গত অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়নের জন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। কারণ ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকার পতনের পর প্রশাসনে অস্থিরতা ছিল, অনেক প্রকল্পের পরিচালক ও ঠিকাদার চলে যায়। এ কারণে গত অর্থবছরের এডিপি বাস্তবায়ন ব্যহত হয়েছিল। এই পরিস্থিতি চলতি অর্থবছরেও রিজারমান ছিল।
অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনের কারণে, অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ডও ছিল নির্বাচনমুখী।
এদিকে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে চলমান প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনার কার্যক্রম শুরু করে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন প্রকল্পও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। চলমান প্রায় ১,৩০০ প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের কারণে অনেক প্রকল্পের বাস্তবায়নে গতি আসেনি।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর সাবেক মহাপরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, এডিপি বাস্তবায়ন কম হওয়াটা এ বছর একেবারেই অস্বাভাবিক নয়, বরং প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এটি স্বাভাবিকই বলা যায়। কারণ বিগত সময়টা ছিল কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী। নির্বাচন আয়োজন ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রচেষ্টায় অন্তর্বর্তী সরকারের বেশিরভাগ মনোযোগ, সময় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা ব্যয় হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর দিকে ততটা গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, "সরকার যন্ত্র অর্থাৎ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নির্বাচন ও সংস্কার-সংক্রান্ত কাজে বেশি ব্যস্ত ছিলেন। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর। ফলে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে যাওয়া স্বাভাবিক একটি ফলাফল।"
