সার-কীটনাশকের দেশীয় উৎপাদনে উৎসাহ দিতে ভ্যাট-শুল্ক মওকুফ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশীয় কীটনাশক শিল্পকে শক্তিশালী করা, প্রস্তুত পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কীটনাশক উৎপাদনে ব্যবহৃত ৩৬টি কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবনা আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে এবারের উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এছাড়া কৃষিতে ব্যবহৃত সব ধরনের কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে সার উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফের প্রস্তাবনা আনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'স্থানীয়ভাবে জিংক সালফেট সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এর মূল কাঁচামাল জিংক অ্যাশ আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করে শূণ্য শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর কৃষিতে ব্যবহৃত সব ধরনের সারের ব্যবসায়িক পর্যায়ে বর্তমানে আরোপিত ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট পুরোপুরি প্রত্যাহার করার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।'
বাংলাদেশ এগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে স্থানীয় উৎপাদনের জন্য আমদানি করা কাঁচামালের ওপর ভ্যাটসহ মোট করের বোঝা ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। ফলে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
সংস্থাটি জানায়, প্রায় ২০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান দেশে কীটনাশক উৎপাদন করছে। প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার এ বাজারে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দখলে রয়েছে ৫৫ শতাংশ বাজার। স্থানীয় আমদানিকারকদের অংশ ৪১ শতাংশ এবং দেশীয় উৎপাদকদের অংশ মাত্র ৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে কৃষি উপকরণের উৎপাদন খরচ কমবে, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং কৃষকদের জন্য সার ও কীটনাশকের দামও কমে আসতে পারে।
বামার সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর, কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এটার দাবি জানিয়ে আসছিলাম। আমদানি করা কীটনাশকের ওপর কাস্টমস শুল্ক মাত্র ৫ শতাংশ। অথচ স্থানীয় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হয়। এটা অন্যায্য। ফলে দেশে উৎপাদনের তুলনায় আমদানি বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে এবং জাতীয় চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট ও শুল্ক মওকুফ করা হচ্ছে। এটা নিঃসন্দেহে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেবে।'
