পুরোনো শেয়ারধারীদের মালিকানায় ফেরার সুযোগ ব্যাংক খাতকে ঝুঁকিতে ফেলবে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের আবারও মালিকানায় ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া ব্যাংক খাতকে আরও গভীর ঝুঁকির মুখে ফেলবে। কারণ, এসব পুরোনো শেয়ারহোল্ডারদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শাস্তির পরিবর্তে তাদের পুনর্বাসন করা হলে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ধসে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে 'ভয়েস ফর রিফর্ম' আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব আশঙ্কা প্রকাশ করেন। গোলটেবিলটি 'সংশোধিত "ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৪" (বা ২০২৬): আবারও ঝুঁকির মুখে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা?' শীর্ষক বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
গোলটেবিলে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইবিএম-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, রাজনীতিবিদ সরোয়ার তুষার, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক এ. কে. এম. ওয়ারেসুল করিম, সিএফএ সোসাইটির সভাপতি আসিফ খান এবং বাংলাদেশ থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও গার্মেন্ট উদ্যোক্তা শামস মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে বিআইবিএম-এর প্রাক্তন মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, 'একীভূত হওয়া ব্যাংক থেকে যারা বাইরে অর্থ পাচার করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। অথচ তাদের শাস্তি না দিয়ে এসব ব্যাংকে আবার মালিক হিসেবে ফেরার সুযোগ তৈরি করা হলো। এ সুযোগ কেন দেওয়া হলো? এ রকম সুযোগ দিলে ব্যাংক খাতে আরও ঝুঁকি তৈরি হবে।'
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ. কে. এম. ওয়ারেসুল করিম আইনি অসঙ্গতি তুলে ধরে বলেন, 'ব্যাংক রেজুলেশনের ১৮ (ক)-তে যা দেওয়া হয়েছে, তা পুরো উদ্দেশ্যকে হতাশ করেছে। ১০ বছর আগে যারা শেয়ার হারিয়েছেন, তাদের পুনরায় শেয়ারে আসার সুযোগ রাখা হয়নি। এখানে সরকার অত্যন্ত নিম্নমানের চালাকি করেছে। অর্থাৎ ২০১৭ সালে একটি হোটেলে যাদের কাছ থেকে জোর করে শেয়ার নিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারাও আর আসতে পারবেন না।'
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অধ্যাপক ড. মুশতাক খান ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে সতর্ক করে বলেন, 'ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ব্যাংকগুলো পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত; একটি ব্যাংক বন্ধ হলে এর প্রভাব অন্য সুস্থ ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি না হলে দ্বিতীয় দফা 'ব্যাংক রান'-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা থামানো কঠিন হয়ে পড়বে, যা পুরো খাতকে অস্থির করে তুলবে।'
বক্তারা সম্মিলিতভাবে হুশিয়ারি দেন যে, ব্যাংক খাতের সংস্কার করতে হলে অপরাধীদের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
