যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক চুক্তি সই আজ
আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তবে বাণিজ্য উপদেষ্টা সশরীরে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। তিনি ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানও ঢাকায় বসে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে গেছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকায় বসে ইতিমধ্যেই এ চুক্তিতে সই করেছেন। তার সই করা কপি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চুক্তিতে সই করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ার। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল বাণিজ্য উপদেষ্টার সই করা চুক্তিপত্র হস্তান্তর করবেন এবং ইউএসটিআরের সই করা চুক্তিপত্র গ্রহণ করবেন।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশি পণ্যেও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশে বাংলাদেশি পণ্যকে ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক দিতে হবে। গত বছর আগস্ট থেকে এ শুল্ক কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর শর্ত দিয়েছে।
বাংলাদেশ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে, আর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে রপ্তানি করে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের গম, ভোজ্য তেল, জ্বালানি, তুলা আমদানির মতো বিষয়ে চুক্তি হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়েও চুক্তি করবে সরকার। এছাড়া অশুল্ক বাধা ও নিরাপত্তার মতো কিছু বিষয় থাকছে চুক্তিতে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা ৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে এবং এই টাকা পরিশোধ করতে হবে প্রায় ২০ বছর ধরে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ৪৭টি বিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল, সরকার আপাতত ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিটি সম্পন্ন করছে, যাতে আগামী নির্বাচিত সরকারকে অতিরিক্ত চাপের মুখে কাজ করতে না হয়।
পাল্টা শুল্ক সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত ও অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়ে দেশটির সঙ্গে চলমান আলোচনার কথাও তুলে ধরেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, 'শুরুতে আমাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা আলোচনার মাধ্যমে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতের পণ্যের শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার বিষয়টি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।'
বশিরউদ্দীন আরও বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে একমাত্র বাংলাদেশই ছিল এমন দেশ, যার সঙ্গে হওয়া চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ্যে আনা হয়েছিল—যা আগের আলোচনায় জটিলতা সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, 'চুক্তির বিষয়টি যদি প্রকাশ না পেত, তাহলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আরও কম হারে শুল্ক সুবিধা আদায় করা সম্ভব হতো।'
