রমজানের আগে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস দ্রুত পুনরায় শুরুর আহ্বান শিপ হ্যান্ডলারদের
রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা তুলে ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করা মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরুর জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএইচবিওএ)।
এনসিটি ইস্যুতে শ্রমিক-কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় এ আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এদিন এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বিএসএইচবিওএ জানায়, লাইটার জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাসে চলমান অচলাবস্থার কারণে সাগরে অপেক্ষমাণ মাদার শিপগুলো থেকে কার্যত কোনো পণ্যই নামানো যাচ্ছে না।
বন্দর নিরাপত্তা কাউন্সিল কমিটির সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বিএসএইচবিওএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সরওয়ার হোসেন।
সংগঠনটির মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে চাপ বাড়তে থাকায় শিপিং এজেন্ট ও আমদানিকারকেরা বারবার লাইটারিং কার্যক্রম পুনরায় শুরুর দাবি জানাচ্ছেন।
বর্তমানে বহির্নোঙরে নোঙর করা জাহাজগুলোতে সিমেন্ট, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, গম, ভোজ্যতেল ও সয়াবিন তেলের মতো বিপুল পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে, যেগুলোর চাহিদা পবিত্র রমজান মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
চিঠিতে বলা হয়, "এই পণ্যগুলো নিয়মিত ভোগের জন্য জাহাজে বিপুল পরিমাণে মজুত রয়েছে, বিশেষ করে রমজান মাসে চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে। দ্রুত পণ্য খালাস পুনরায় শুরু না হলে দেশ ও জনগণ মারাত্মক সংকট ও দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারে।"
বিএসএইচবিওএ জাতীয় ও জনস্বার্থ রক্ষায়, কৃত্রিম সংকট এড়াতে এবং রমজানের আগে ও চলাকালীন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বহির্নোঙরে স্বাভাবিক পণ্য খালাস কার্যক্রম বজায় রাখার জন্য সিপিএকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের বড় একটি অংশ, বিশেষ করে বাল্ক নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশ করে, যা সাধারণত সাগরে নোঙর করা বড় মাদার ভেসেল থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে খালাস করা হয়। বিএসএইচবিওএ বন্দরের শিপ হ্যান্ডলিং ও বার্থ অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত অপারেটরদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন।
এর আগে, রোববার সকাল ৮টা থেকে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা দুই দিনের বিরতির পর পুনরায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য ডেলিভারি এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাসসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত সপ্তাহের কর্মবিরতি কর্মসূচির সময় বহির্নোঙরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
