২০২৫ সালে অগ্রণী ব্যাংক খেলাপি ঋণ কমিয়েছে ৩,৫৮৪ কোটি টাকা
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। গত বছর এ খাতের ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ কমাতে জোরালো উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে অগ্রণী ব্যাংক তাদের খেলাপি ঋণ কমিয়েছে ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা।
এতে ব্যাংকটির প্রায় ৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ কমেছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের শেষে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ২ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৪০.৪৯ শতাংশ। ২০২৫ সাল শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩৫.৫২ শতাংশ।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, 'আমি এমডি হিসেবে যোগদানের পর খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। এসব উদ্যোগের সুফলও পাওয়া গেছে। তবে আরও খেলাপি ঋণ কমাতে হবে।
'২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।'
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত ছিল ৯৯ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। ২০২৫ সাল শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। এক বছরে আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা।
একই সময়ে ব্যাংকটির মোট ঋণ ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের ইতিহাসে গত বছর সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা অর্জিত হয়েছে। মূলত খেলাপি ঋণ থেকে আদায় বৃদ্ধির কারণেই পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।
গত বছর ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৯৯১ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪ সালে পরিচালন মুনাফা ছিল ১ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।
গত বছর খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ১০ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছিল ১ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ আদায় বেড়েছে ৮ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, গত বছর তারা খেলাপি থেকে ১ হাজার ৯ কোটি টাকা নগদ আদায় করেছেন। পুনঃতফসিলের মাধ্যমে আদায় হয়েছে ৮ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা ও অবলোপন থেকে ৯৩৬ কোটি টাকা।
'এ বছর সব মিলিয়ে আমরা ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আশা করি আমরা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হব,' বলেন আনোয়ারুল।
অগ্রণী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহও অনেকটা বেড়েছে। ২০২৫ সালে ব্যাংকটি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ৩৩ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা, যা তার আগের বছরের তুলনায় ১২ হাজার ৯২৮ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪ সালে এ ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১ হাজার ৩৩ কোটি টাকা।
এছাড়া ২০২৫ সালে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ৫৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা—যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা বেশি। ২০২৪ সালে এ ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হয়েছিল ৫০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।
রেমিট্যান্স ও আমদানি বাড়লেও গত বছর অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি কমেছে। ২০২৫ সালে এ ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি আয় এসেছে ১৩ হাজার ২৫২ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮৬২ কোটি টাকা কম।
