মরক্কোর অকুতোভয় অশ্বারোহিণীদের ছুটে চলা
মরক্কোর ছোট্ট মেয়ে জাহিয়া আবুলায়িত। বাবার সঙ্গে করে মুসেমে যাওয়া তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ। গ্রামীণ মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী উৎসব মুসেম। সেখানে তিবোরিদায় ঘোড়সওয়ারি করেন বাবা। অবাক চোখে বাবাকে ঘোড়া ছোটাতে দেখেন ছোট্ট জাহিয়া।
তিবোরিদা, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এক ঘোড়সওয়ারি খেলা। চারিদিকে দর্শকঘেরা মাটির ট্র্যাক, তাতে ঘোড়ার খুরে ধুলো উড়িয়ে, সার বেঁধে, তাল মিলিয়ে ছুটে চলা একদল সওয়ার। দেখে মনে হয় কোনো অশ্বারোহী সৈন্যদল ছুটছে যুদ্ধের ময়দানে। একপর্যায়ে অশ্বারোহীরা সকলে একই সঙ্গে তাদের পুরোনো রাইফেল উঁচিয়ে ধরেন। একসঙ্গে ছোড়া গুলির বিকট ধ্বনিতে ময়দান কাঁপিয়ে শেষ হয় শোভাযাত্রা।
আরবি শব্দ বারুদ থেকে তিবোরিদা নামটি এসেছে। উত্তর আফ্রিকার আরও কিছু এলাকায় এই খেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে মরক্কোতেই এ খেলা বিশেষভাবে জনপ্রিয়। জাহিয়া আবুলায়িতের বাবা পেশায় একজন কৃষক। শখের বশে তিনি তিবোরিদা দলের হয়ে ঘোড়সওয়ারি করতেন। তার মেয়ে কোনো মুসেমে যাননি এমনটা খুব কমই ঘটেছে। তিবোরিদার সবকিছুই ভালোবাসেন জাহিয়া—ঘোড়ার গন্ধ, বন্দুকের বিকট শব্দ কিংবা ঘোড়ার ওপর মানুষের গায়ে উড়তে থাকা পোশাকের সূক্ষ্ম কারুকাজ।
সেই সময় তিবোরিদার অশ্বারোহীদের প্রায় সবাই ছিলেন পুরুষ। ১৯৯৯ সালের এক মুসেমে, বাবার দলের একজন আরোহী আসতে পারেননি। তার জায়গায় সেদিন সুযোগ চেয়েছিলেন ১৪ বছর বয়সী আবুলায়িত।
ছয় বছর বয়স থেকেই ঘোড়ায় চড়তেন আবুলায়িত। তখন থেকেই তার তিবোরিদা দেখা ও শেখা। মেয়ের আগ্রহকে বাবা সব সময় উৎসাহ দিতেন। তাই সেদিন মেয়ের ঘোড়সওয়ার হওয়াতে আপত্তি করেননি তিনি।
জেল্লাবা, ঐতিহ্যবাহী লম্বা এক পোশাক, যা পরে সওয়ারি করতেন বাবা। নিজের পোশাক সেদিন মেয়েকে পরিয়ে দেন। পায়জামা আর জুতার সঙ্গে জেল্লাবা গায়ে চাপিয়ে নিলেন আবুলায়িত। এরপর সাহস করে বাবার কাছে একটি বন্দুক চান তিনি। এসব বন্দুকে গুলির ব্যবহার হয় না। মেয়ের হাতে বন্দুক তুলে দিলেন বাবা, আর দেখিয়ে দিলেন বারুদ ভরার কৌশল।
প্রথমবার তিবোরিদায় ঘোড়সওয়ারির সেই দিনের কথা এখনো ভাবেন আবুলায়িত। তার মনে পড়ে, ভিড়ের মধ্যেও শত শত দর্শক কীভাবে তার ছবি তুলছিলেন। তারাও প্রথমবার কোনো মেয়েকে তিবোরিদায় দেখছিলেন সেদিন।
তারপর একে একে কেটে গেছে ২৭ বছর। নারীরা ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী তিবোরিদায়। আবুলায়িত এখন মরক্কোর জনপ্রিয় অশ্বারোহিণী। নিজেই পরিচালনা করেন নারী ঘোড়সওয়ারদের একটি দলও। মরক্কোতে প্রায় এক হাজার তিবোরিদা দল রয়েছে। তবে শুধু নারীদের নিয়ে গঠিত দলের সংখ্যা এক ডজনেরও কম। সেই অল্প কয়েকটি দলের একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবুলায়িত। দীর্ঘদিন তিবোরিদায় অংশ নেওয়া অভিজ্ঞ নারীদের ছোট একটি সংগঠনেরও অংশ তিনি। এই নারীরাই তিবোরিদার ঐতিহ্য নিয়ে মানুষের ধারণা বদলাতে সাহায্য করেছেন।
এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিবোরিদার ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যা এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটিকে বিশ্বের নতুন নতুন দর্শকদের সামনে তুলে ধরছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবুলায়িতও পথিকৃৎ থেকে প্রশিক্ষকে পরিণত হচ্ছেন। নতুন প্রজন্মের তরুণীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যাতে তারা দীর্ঘ ইতিহাস সমৃদ্ধ এই ঐতিহ্যকে বহন করতে পারে।
প্রায় ১৬ শতাব্দী থেকে মরক্কোর গ্রামে গ্রামে তিবোরিদা চর্চা হয়ে আসছে। শুরুটা সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে হলেও সময়ের সঙ্গে তা খেলায় রূপান্তরিত হয়। এই খেলায় দেশটির আরব সংস্কৃতি ও আদিবাসী আমাজিগ জাতির ঐতিহ্য একসঙ্গে মিশে গেছে।
তিবোরিদাকে বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেসকো। ১৯ শতকে ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসকেরা তিবোরিদার নাম দিয়েছিলেন ফ্যান্টাসিয়া। মরক্কোর বেশির ভাগ মানুষই চাপিয়ে দেওয়া এই বিদেশি নামটি অপছন্দ করেন।
তিবোরিদায় ঘোড়া ও ঘোড়সওয়ার—দুজনই জমকালো কারুকার্জ খচিত পোশাক পরেন। ঘোড়সওয়ারদের হাতে থাকে সরু নলযুক্ত পুরোনো ধাঁচের বন্দুক। সামনে দিয়ে বারুদ ভরা এসব বন্দুক অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ছন্দে বাঁধা ঘোড়ার খুরের শব্দ, তাদের তীব্র গতি আর ঘোড়সওয়ারদের সমবেত গুলিবর্ষণ—মাত্র কয়েক মুহূর্ত স্থায়ী এই পরিবেশনা দর্শকদের উত্তেজনার পারদকে শিখরে নিয়ে যায়। অশ্ব, আরোহী আর অস্ত্রের ধ্বনি যখন নিখুঁতভাবে মিলেমিশে যায় তখন দর্শকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। ঘোড়সওয়ারির দক্ষতা, আড়ম্বর আর কতটা নিখুঁত প্রদর্শনী হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে তিবোরিদার দলগুলোকে বিচার করা হয়।
রাটগার্স ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞানী জাকিয়া সালিমে বলেন, শত শত বছর ধরে তিবোরিদা ছিল পুরুষদের পরিবেশনা। যোদ্ধাদের দক্ষতা প্রদর্শনের এই ঐতিহ্য থেকে নারীদের বাদ রাখা হতো। বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে নারীদের তিবোরিদা দল গড়ে উঠতে শুরু করে। কোনো প্রতিবাদ বা আন্দোলনের ফলে এমনটা ঘটেছে তা নয়। একে এক নীরব বিপ্লব আখ্যা দেন সালিমে।
ন্যাশনাল জিওগ্রাফির একজন এক্সপ্লোরার ইউনিভার্সিটি অব নেব্রাস্কা-লিংকনের নৃবিজ্ঞানী গিনেথ ট্যালি। নারী তিবোরিদা দল নিয়ে গবেষণা এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন তিনি। ট্যালি বলেন, এমনও নয় যে কেউ প্রচলিত নিয়মকানুন বদলাতে চেয়েছিলেন বলে তিবোরিদায় নারীদের প্রবেশ ঘটেছিল। কাকতালীয়ভাবেই নারীদের তিবোরিদায় অংশগ্রহণের প্রথম দিককার সময়টি মরক্কোর জাতীয় অশ্বারোহী ফাউন্ডেশনের প্রথম নারী সভাপতির একটি প্রচারণার সঙ্গে মিলে যায়। দেশটির রাজপরিবারের সদস্য এই নারী প্রতিযোগীতামূলক অশ্বারোহণে নারীদের অংশগ্রহণের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন।
তিবোরিদা দলগুলোকে বলা হয় 'সোরবা'। ২০ বছর বয়স অবধি বাবার সোরবাতেই সওয়ারি চালিয়ে যান আবুলায়িত। যখন নারীদের নিয়ে নিজের একটি সোরবা গড়ে তুললেন, তখনো তিনি কিশোরীই। নারী-পুরুষ একসঙ্গে কোনো সোরবায় কাজ করছেন, এই দৃশ্য এখনো বিরল।
তেমন কোনো প্রকাশ্য বাধার মুখে পড়েনি আবুলায়িতের দলের নারীরা। তিনি বলেন, কোনো কোনো পুরুষ ঘোড়সওয়ার খানিকটা শত্রুতা করেন বটে। কিন্তু বেশির ভাগই সহযোগিতা ও সৌজন্যমূলক আচরণই করেন। নিজেদের বন্দুকও ধার দেন অনেকে, আবুলায়িতের সোরবাকে নিজেদের আগে প্রদর্শনীর সুযোগও করে দেন তারা।
আবুলায়িত এখন কাসাব্লাঙ্কায় থাকেন। সেখানে তিনি কাজ করছেন ব্যবসা প্রশাসন নিয়ে। একই সঙ্গে তিন সন্তানকে বড় করছেন। তবে গরমের সময় হলেই একদল তরুণী ঘোড়সওয়ার নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়ান মুসেমের আয়োজনগুলোতে। দলের প্রত্যেকে তার নিজের খুঁজে বের করা এবং তার হাতেই গড়ে ওঠা অশ্বারোহিণী।
মুকাদ্দেমা বা দলনেত্রী হিসেবে আবুলায়িতের দায়িত্ব শুধু সামনে সারিতে ঘোড়া ছোটানো নয়। তার দলে যাদের উপযুক্ত ঘোড়া নেই, তাদের জন্য একই রকম দেখতে ঘোড়া খুঁজে বের করতে হয় তাকে। দলের সাজপোশাক ও অর্থের জোগানও তারই দায়িত্ব। প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনও তিনিই পরিচালনা করেন। ঘোড়ার খুরের ছন্দ আর বন্দুকের ধ্বনি নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেওয়ার কৌশলে যেন দলের সকলে পাকা হয়ে ওঠেন, সেটাও নিশ্চিত করতে হয় আবুলায়িতকেই।
'তিবোরিদার পুরোটাই আসলে শৃঙ্খলা। সোরবার কঠোর নিয়মনিষ্ঠার ফল হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে ভালো স্থান অর্জন। আমাদের অনেক সুনাম রয়েছে এ বিষয়ে। এই সুনাম ধরে রাখতে হবে', বেশ জোর দিয়েই এ কথা বলেন আবুলায়িত। 'তিবোরিদা আমাদের গর্ব। ক্রিড়া প্রতিযোগিতা ছাড়াও এর মধ্যে একটা মরোক্কান ব্যাপার আছে। এমন কিছু যা আমাদের নিজেদের', বলেন আবুলায়িত।
গিতা জিয়াতের বয়স ২৬ বছর। দুই বছর ধরে তিনি আবুলায়িতের সঙ্গে ঘোড়সওয়ারি করছেন। তার কাছে আবুলায়িত শুধু আদর্শ মুকাদ্দেমাই নন, বরং একজন কিংবদন্তি।
জিয়াত বেড়ে উঠেছেন মারাকেশ শহরে। ফলে ঘোড়ায় চড়ার সুযোগ তিনি পেতেন গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে। কিশোরী বয়সে তার বাবা অবশ্য ঘোড়সওয়ারির প্রশিক্ষণের ব্যাপারে রাজি ছিলেন না। যদিও তাতে তিবোরিদার প্রতি তার আগ্রহ কমেনি। পরিবারের সঙ্গে শহরের বাইরে মুসেম উৎসবে গেলেই তিনি মুগ্ধ হয়ে তিবোরিদা দেখতেন। এই অঞ্চলের প্রথম নারী মুকাদ্দেমা জাহিয়া আবুলায়িতের গল্প শুনেছিলেন জিয়াত। তবে তাকে কখনো নিজের চোখে ঘোড়সওয়ারি করতে দেখেননি। জিয়াতের মনে পড়ে তিনি বলতেন, 'আমি জাহিয়া হতে চাই।'
মুকাহলা, তিবোরিদায় চালানো বন্দুকের নাম। ২০ বছর বয়সেই নিজের মুকাহলা কেনেন জিয়াত। সব বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি ঘোড়সওয়ারির প্রশিক্ষণ নেন। একসময় নিজের ঘোড়া কেনার মতো টাকাও জমিয়ে ফেলেন। ঘোড়াটি তিনি মারাকেশের বাইরে একটি আস্তাবলে রাখতেন। জিয়াত নিজের ঘোড়ার নাম দেন 'জের', যার অর্থ সৌভাগ্য।
অনলাইনে পরিচিত একজনের কাছ থেকে আবুলায়িতের ফোন নম্বর পেয়েছিলেন জিয়াত। কিন্তু কল করার সাহস করে উঠতে পারেননি। এরপর একদিন তার ফোন বেজে উঠল। ফোনের দিকে তাকিয়ে তিনি থমকে গেলেন, স্বয়ং মুকাদ্দেমা আবুলায়িত!
পরিচিত একজন ঘোড়সওয়ারের কাছ থেকে জিয়াতের কথা শুনেছিলেন আবুলায়িত। তিনি জানতে চাইলেন, মরক্কোর সবচেয়ে বড় ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক উৎসবে জিয়াত কি তার সোরবার সঙ্গে ঘোড়সওয়ারি করতে চান?
পাঁচ দিন পর, গভীর রাতে ঘোড়া জেরকে নিয়ে জিয়াত পৌঁছালেন উৎসবে। প্রতিবছর এক সপ্তাহ ধরে চলে 'মুসেম মওলে আবদেল্লাহ আমঘার' নামে এই উৎসব। হাজারো দর্শকের সামনে শতাধিক তিবোরিদা দল প্রতিযোগিতা করে এখানে। আবুলায়িত তার দলের তাঁবুর বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তার সঙ্গে অল্প কিছু কথাবার্তা বললেন জিয়াত। তারপর সম্পূর্ণ অপরিচিত একদল মানুষের পাশে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন তিনি। পরদিন সকালে প্রথমবারের মতো জিয়াত তার স্বপ্নের বীর নারী আবুলায়িতের সঙ্গে ঘোড়সওয়ারি করেন। সেদিন যে নারীদের সঙ্গে তিনি ঘোড়া ছুটিয়েছিলেন, আজ তাদের সঙ্গে জিয়াতের সম্পর্ক আপন বোনের মতো।
'তিবোরিদা আমাদের ঐতিহ্য। এই উত্তরাধিকার আমাদেরই রক্ষা করতে হবে'—বলেন গিতা জিয়াত। জিয়াতের ভাষ্যমতে, আবুলায়িতই তাকে শিখিয়েছেন ঘোড়সওয়ার হওয়ার প্রকৃত মর্ম। পরিবার, পেশা এবং এই খেলার প্রতি নিজের নিবেদন, সবকিছুর মধ্যে আবুলায়িত যেভাবে ভারসাম্য রেখে চলেন, তা জিয়াতের কাছে প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, 'জাহিয়া খুশি হলে, তার মুখে হাসি দেখলে আমরা তার চেয়েও বেশি খুশি হই।'
আবুলায়িত ইচ্ছা করেই নিজের দল ছোট রেখেছেন। কোনো কোনো সোরবায় দুই ডজনের বেশি ঘোড়সওয়ার থাকেন। অথচ তার দলে এখন ১২ জন নারীও নেই। হিন্দ আল রামি নামে এক অশ্বারোহিণী বলেন, 'আমার টাকাপয়সা, যাবতীয় খরচ, আমার ভালোবাসা এমনকি দুঃখগুলোকেও আমি আমার ঘোড়ার সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছি।'
আজকাল এমন অনেক তরুণ-তরুণীর সঙ্গে আবুলায়িতের দেখা হয়, যাদের আগ্রহের মূল বিষয় হলো তিবোরিদার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা। সংক্ষিপ্ত, রঙিন ও আকর্ষণীয় এই পরিবেশনা সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শক টানতে পারে। তবে আবুলায়িতের পছন্দ এমন অশ্বারোহিণী, যারা পরিশ্রম করার জন্য আসেন। তার সোরবাও পরিবেশনার ভিডিও ধারণ করে, তবে তা শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার জন্য নয়। বরং খেলার রেকর্ডের মতো করে পরবর্তী সময়ে কে কোথায় আরও ভালো করতে পারেন, তা খুঁটিয়ে দেখার জন্য।
প্রতিবার খেলার আগে দলের সবাই একসঙ্গে অজু করেন। তারপর নিরাপদে ঘোড়সওয়ারি করার জন্য দোয়া করেন। আবুলায়িতের মতে, ঘোড়ায় ওঠার সময় মন শান্ত থাকা এবং দলের সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকা খুব জরুরি। তারা সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, কিন্তু মেকআপ করেন না। মেকআপ করলে মানুষের মনোযোগ দলের বদলে আলাদা আলাদা ব্যক্তির দিকে চলে যায় বলে মনে করেন আবুলায়িত।
তিবোরিদার ঐতিহ্যে বেশ কিছু আধুনিক ক্ষয় চোখে পড়ে বলে আক্ষেপ করেন আবুলায়িত। যেমন আগে ঘোড়ায় চড়ার অনুমতি পাওয়ার জন্য ছেলেদের অনেক বেশি শিখতে হতো। সোরবার নেতারা নিজেদের মুসেম তাঁবুতে আনুষ্ঠানিকভাবে অতিথি অভ্যর্থনা করতেন, তাদের খাবারের ব্যবস্থাও করতেন। এটা শুধু অতীতের স্মৃতি রোমন্থনের বিষয় নয়, তিবোরিদার মান রক্ষার জন্যও এসব আচারের গুরুত্বের কথা ভাবেন আবুলায়িত।
অনুবাদ: নুসরাত জাহান